পটুয়াখালীর কালিকাপুর ইউনিয়নের টাউন বাহারগাছিয়া গ্রামের আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঢাকার বিভিন্ন থানায় মাদক ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত আবুল বাশার বর্তমানে দুটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী পৌর শহরের বড় চৌরাস্তা এলাকার স্টার রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার এএসআই রিপনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তার আবুল বাশার পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের টাউন বাহারগাছিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ শিকদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকার বাড্ডা থানার মধ্যবাড্ডা এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। একসময় নিজ এলাকায় একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে যান। এরপর সেখানে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশান থানায় একটি, পল্টন থানায় দুটি, শাহবাগ থানায় একটি, ভাটারা থানায় একটি, বনানী থানায় একটি এবং শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা রয়েছে। এর পাশাপাশি পটুয়াখালী সদর থানাতেও মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা চলমান রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় আদালতের ওয়ারেন্ট থাকায় পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এলাকায় দিনমজুরের কাজ করা আবুল বাশারের জীবনযাত্রায় পরবর্তীতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বর্তমানে পটুয়াখালীর টাউন বাহারগাছিয়া এলাকায় জমি কিনে তিনি একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করছেন বলে জানা গেছে। ঢাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে এবং তিনি দামি গাড়ি ব্যবহার করেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আবুল বাশারের বড় ভাই রাজা শিকদারের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মাদকসহ তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল বলেও জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের দাবি, ঢাকায় বসবাসের সময় আবুল বাশার একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা থাকায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে মাদক সরবরাহের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবুল বাশারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আবুল বাশার নামে দুইটি ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মাদক ও ডাকাতির মামলা চলমান রয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো আইনগত প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।