নিজস্ব প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রিজভীর সঙ্গে জাফর ইমাম সিকদারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের সিকদার পরিবারের সন্তান ও বিএনপি নেতা জাফর ইমাম সিকদার। এ সময় তিনি রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সক্রিয় ও সুসংগঠিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জাফর ইমাম সিকদারের রাজনৈতিক পথচলা:

নব্বইয়ের দশকের ছাত্ররাজনীতির উত্তাল সময় থেকে। তিনি বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি এবং ওই সময়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্বে ছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছেন তিনি।

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা:

নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জাফর ইমাম সিকদারের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত ছিল বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের দাবি।
দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করাকে তিনি রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেছেন—এমনটাই জানিয়েছেন তার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা নেতাকর্মীরা।

পদ নয়, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব:

জাফর ইমাম সিকদারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তার ঘনিষ্ঠরা যে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন, তা হলো পদ-পদবির প্রতি তার অনাগ্রহ।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় পদ বা ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য প্রকাশ্য তৎপরতা কিংবা তদবিরের পথ বেছে নেননি। বরং দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন।
রাজনৈতিক সহকর্মীদের কেউ কেউ মনে করেন, এ কারণেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পরও তিনি তৃণমূলের একজন সক্রিয় ও পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে ধরে রেখেছেন।

মির্জাগঞ্জের মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ:

রাজধানী ঢাকায় কর্মজীবনের ব্যস্ততা থাকলেও মির্জাগঞ্জের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। সুযোগ পেলেই তিনি নিজ এলাকায় যান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সময় কাটান বলে স্থানীয়রা জানান।
এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানুষের ব্যক্তিগত সংকট কিংবা স্থানীয় কোনো সমস্যায় সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে চলছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগকে তিনি গুরুত্ব দেন বলেও জানান তারা।

নির্বাচনী মাঠেও সক্রিয় থাকার দাবি:

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও জাফর ইমাম সিকদারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, পটুয়াখালীতে বিএনপির প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন বলে যানা যায়। স্থানীয় নেতাদের
মতে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে তৃণমূলে আগ্রহ:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে জাফর ইমাম সিকদারের সাম্প্রতিক এ সাক্ষাৎকে ঘিরে মির্জাগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মধ্যে।

তবে সাক্ষাৎকে ঘিরে কোনো নতুন সাংগঠনিক পদ বা দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও রাজনৈতিক মতবিনিময়।

দলের প্রতি দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার ধারাবাহিকতায় জাফর ইমাম সিকদারের এই সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী দিনে তার রাজনৈতিক ভূমিকা কোন দিকে এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।