নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি আবাসন কোম্পানি কর্তৃক অবৈধ দখল বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের মাধ্যমে ৯ দফা দাবী পেশ করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার জলসিঁড়ি প্রকল্পের ৪ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী ক্যাম্পে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে আহসান উল্লাহ মাস্টারের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অন্যদিকে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু তারেক মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীদের নানা সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন।
সভায় গ্রামবাসীদের পক্ষে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের সঠিক সীমানা নির্ধারণ (ডিমার্গেশন), বসতবাড়ি বাদ দিয়ে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্প সীমানার ভেতরে থাকা জমির বিনিময়ে গ্রামবাসীদের আনুপাতিক হারে জমি বা প্লট বরাদ্দ, জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানানো হয়।
সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, পৈতৃক ভিটা-মাটি রক্ষা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে ১০টি গ্রামের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আবাসন প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট বৈষম্য ও ভোগান্তি নিরসনে ঘোষিত ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে স্থানীয়দের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উক্ত আলোচনা সভায় ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন ও সংহতি প্রকাশ করেন— ব্যাংকার আবু বক্কর সিদ্দিক, হোসেন ব্যাপারী, পেশকার শামসুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম রফিক, দলিল লেখক গুলজার হোসেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, বাহার উদ্দিন নয়ন, প্রভাষক নূর সালাম, আমজাদ, ফার্মাসিস্ট সুমন মিয়া, মাহাবুবুর রহমান (বাবু), ঢাকা থেকে আগত প্রতিনিধি হাবিব ও আবদুর রহিম দুয়ারী, আনোয়ার হোসেন এবং হাফেজ আবদুল বাতেন।
সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে রূপগঞ্জের ১০টি গ্রামের মানুষের স্বার্থে ৯ দফা দাবি দ্রুততম সময়ে মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।