রিপোর্টারের নাম , আপলোডের সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চারদিনের এ সফরে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন ৩৫ জন। এরমধ্যে রয়েছেন ৪ জন মন্ত্রী ও ২ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর উপলক্ষে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কার্টেন রেইজার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ সময় জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়ক অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে চারজন মন্ত্রী থাকবেন। তাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিউইয়র্ক যাবেন। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন রেভ্যুলশনারি ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন।

পররাষ্ট্র সচিবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বর্তমান সরকারের হয়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে।

নিউইয়র্কে পৌঁছে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। ওইদিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত উত্তরণবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

একইদিন বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

সফরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে তার।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয় গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।