বরগুনার আমতলীতে আদালতের রায় রয়েছে দাবি করে একটি জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় জমির মালিক দাবিদার মামুন প্যাদাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাষাবাদ বন্ধ করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের চাউলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামুন প্যাদা বুধবার রাতে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
মামুন প্যাদা ও তাঁর ওয়ারিশদের দাবি, নিলাম খরিদসূত্রে এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে তাঁরা চাউলা গ্রামের ৯ একর ৭৬ শতাংশ জমির মালিকানা পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
মামুন প্যাদা জানান, ২০২০ সালে প্রতিবেশী হারুন মুসুল্লী, আমজেদ খাঁন ও তাঁদের সহযোগীরা ওই জমি নিজেদের দাবি করে চাষাবাদ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে আমতলী সহকারী জজ আদালতে মামলা করা হয়। পরে ২০২২ সালের ২৯ মে আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দেন বলে তিনি দাবি করেন। এরপর থেকে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
তাঁর অভিযোগ, বুধবার জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে হারুন মুসুল্লী, আমজেদ খাঁন ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও দাবি করেন।
মামুন প্যাদা আরও অভিযোগ করেন, আদালতের রায়ের বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার হারুন মুসুল্লী, আমজেদ খাঁন ও তাঁদের লোকজন ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাষাবাদ বন্ধ করে দেয়। তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আমজেদ খাঁন বলেন, “৯ দশমিক ৭৬ একর জমি গত প্রায় ৬০ বছর ধরে আমরা ভোগদখল করে আসছি। মামুন প্যাদা জোরপূর্বক ওই জমিতে চাষাবাদ করতে চাচ্ছেন। এ বছর তাঁকে জমিতে চাষাবাদ করতে দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, ওই জমিতে ৩৫ জন অংশীদার রয়েছেন এবং তাঁর অংশ মাত্র ২০ শতাংশ। এ বিষয়ে তিনি এর বেশি কিছু বলতে চান না।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে চাষাবাদ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”