মো. রাসেল মৃধা, (বরগুনা): , আপলোডের সময় : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বেতাগীতে স্কুলছাত্রীর দাঁত ভাঙার অভিযোগ, প্রধান আসামি ফয়সালসহ তিনজন গ্রেপ্তার

বরগুনার বেতাগীতে পঞ্চম শ্রেণির ১০ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে মারধর করে গুরুতর জখম এবং মুখের দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. ফয়সাল (২৩) গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বরগুনা জেলা পুলিশের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই দিন দুপুরে বরগুনার পুরাকাটা এলাকা থেকে ফয়সালকে একটি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া (১০)। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের টিনের বাথরুমে যাওয়ার সময় একই বাড়ির বাসিন্দা ফয়সাল বাথরুমের নিচের ফাঁকা দিয়ে হাত দিয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি শিশুটি তার মাকে জানালে ফয়সালের পরিবারের সঙ্গে এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিরোধের জেরে ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্কুল মাঠের পূর্ব-উত্তর কোণে শিশুটিকে মারধর করেন ফয়সাল। এতে তার মুখের দাঁত ভেঙে যায় এবং সে গুরুতর আহত হয়।

অন্যদিকে, মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন অভিযোগও মামলায় উত্থাপিত হয়েছে। ওই অভিযোগে ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে মারধর করা হয় বলে মামলার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এতে শিশুটির সামনের তিনটি দাঁত উপড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও দুটি দাঁত ভেঙে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর ২১ সেপ্টেম্বর শিশুটির মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় মামলা করেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফয়সাল (২৩), শিরিন বেগম (৪৫) ও সিফাত (১৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফয়সাল গাবতলী এলাকার ফরিদ মৃধার ছেলে।

জানা গেছে, মামলার পর ফয়সাল আত্মগোপনে চলে যান। তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে পুরাকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের পর তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য বেতাগী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযানে আমরাও উপস্থিত ছিলাম।’