মোঃ রাসেল মৃধা (বরগুনা): , আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

সাংবাদিক আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার

বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানি গ্রহণের জন্য তা পিছিয়ে আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বরগুনা জেলা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরানো, হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় এসে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

জামিন শুনানি বুধবার

গত রবিবার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। তবে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানি করার জন্য আদালত শুনানি পিছিয়ে বুধবার দিন ধার্য করেন।

মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সংগঠনের অভিযোগ

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে পুলিশ যে আচরণ করেছে, তা অমানবিক এবং সাংবাদিকদের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের অনুসন্ধানে কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে জমি দখল কিংবা মামলাটি সাজানো—এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

যেভাবে গ্রেপ্তার হন আসাদ সবুজ

গত ১ অক্টোবর রাতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আরও ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মামলায় এলাকার নিরীহ লোকজনকে আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের পর হ্যান্ডকাফ পরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত প্রতিবেদনেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।