বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বেতকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান তালুকদারের পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি, শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং শিক্ষার্থীদের ‘কিশোর গ্যাং’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থ আদায় এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ‘কিশোর গ্যাং’ বলে মন্তব্য করায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা, নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি আদায়ের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রোববার ক্লাস বর্জন করে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এর আগেও তারা কয়েক দফা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করেছে। বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক এমএস আলীকে প্রধান শিক্ষকের অনুসারী বলে পরিচিত নিরাপত্তাকর্মী এমরান হোসেন লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১ অক্টোবর এ আন্দোলনের সূচনা হয় বলে তিনি জানান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান তালুকদারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। ওই সময় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠান। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা শর্তসাপেক্ষে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। তবে আশ্বাসের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নেমেছে।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান তালুকদার বলেন, “যেদিন গোলযোগ হয়েছে, সেদিন আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না। শিক্ষার্থীরা কী কারণে আন্দোলন করছে, সেটিও আমি জানি না। তবে পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে ষড়যন্ত্রকারীরা এসব বিষয় উসকে দিচ্ছে বলে আমার ধারণা।”
এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টির বিষয়ে ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আকতারুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অতি শিগগিরই ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তবে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।