বরগুনার আমতলী উপজেলার ৫ নম্বর চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী জামান রাকিব। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠন এবং একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব চাওড়া ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন মেহেদী জামান রাকিব। দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।
রাকিবের প্রত্যাশা, জনগণের সমর্থন ও দলীয় মনোনয়ন পেলে চাওড়া ইউনিয়নের মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধান, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ইউনিয়নকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি চাওড়া ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে চান। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, শিক্ষা এবং কর্মমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সব ধাপের ভোট বৃহস্পতিবার আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।
তবে আমতলী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কোন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এবং চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
মেহেদী জামান রাকিব বলেন, “আমি চাওড়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং ইউনিয়নের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই ইউনিয়ন পরিষদ হবে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা। মানুষ যেন সহজে সরকারি সেবা পায় এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চাওড়া ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”
চাওড়া ইউনিয়নের স্থানীয় ভোটার মো. আবু হানিফ বলেন, “আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই, যিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের বিপদে পাশে থাকা, এসব বিষয়কে আমরা গুরুত্ব দিই।”
আরেক ভোটার আবদুল রশিদ বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, যিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন, তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবেন। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”
চাওড়া ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কারা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং বিএনপির মনোনয়ন কে পাবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিলের ওপর। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতার মধ্য দিয়ে ইউনিয়নজুড়ে নির্বাচনী আলোচনা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।