আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ , আজকের সময় : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

আমতলীতে কলেজ ছাত্রকে অমানষিক নির্যাতনের অভিযোগ

ছাত্রলীগ দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগ তুলে আমতলী সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র ওমর ফারুককে (১৭) অমানষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আবিদ, সজিব, বায়েজিদ ও তরিকুলের বিরুদ্ধে। কলেজ ছাত্র ওমর ফারুক এমন অভিযোগ করেছেন। ওই ছাত্রকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত তিন দিন ধরে ওই ছাত্র হাসপাতালের বিছানায় বিষম যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন। ঘটনা ঘটেছে বরিবার রাতে।

জানাগেছে, আমতলী সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র ওমর ফারুক গত রবিবার রাতে গ্রামের বাড়ী চন্দ্রা থেকে আমতলী শহরে যায়। শহরের আব্দুল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে থেকে একই কলেজের ছাত্র আবিদ, সজিব, বায়েজিদ ও তরিকুল তাকে অটোরিক্সায় তুলে নেয়। পরে তারা কালিবাড়ী এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে হকস্টিক দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে সড়কের পাশে ফেলে রাখে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালে গত তিনদিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন। কিন্তু পুনরায় তাদের হামলার ভয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবগতের সাহস পায়নি বলে জানান কলেজ ছাত্র ওমর ফারুক।

মঙ্গলবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখাগেছে, কলেজ ছাত্র ওমর ফারুক অসহনীয় যন্ত্রনায় বিছানায় কাটরাচ্ছেন। তার হাত, পা, পিঠ, বুকসহ শরীর বিভিন্ন অঙ্গে রক্তাক্ত জখমের চিহৃ রয়েছে। বিছানায় শুয়ে আছে। নড়াচড়া করতে পারছে না।

নির্যাতিত ছাত্র ওমর ফারুক বলেন, আবিদ, সজিব, বায়েজিদ ও তরিকুল আমাকে অটোরিক্সায় তুলে কালিবাড়ী এলাকায় নিয়ে যায়। পরে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগ তুলে হকস্টিক দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। ওদের পা ধরেই আমি রক্ষা পায়নি। শরীরের এমন কোন অঙ্গ নেই যেভাবে ওরা আমাকে নির্যাতন করেনি। তিনি আরো বলেন, নির্যাতন শেষে আমাকে শাসিয়ে গেছে, কাউকে বিষয়টি জানালে প্রাণে মরে ফেলবে। ভয়ে কাউকে বিষয়টি জানানোর সাহস পাইনি।

বায়েজিদ হোসেন কলেজ ছাত্র ওমর ফারুককে মারধর ও তুলে নেয়ায় তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, বিএনপি দলের বিরুদ্ধে কটুক্তি করায় ওমর ফারুককে মারধর করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজমুল ইসলাম রাহাত বলেন, ওমর ফারুককে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে খোজ খবর নেয়া হবে।