আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ , আজকের সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

আমতলীতে পুলিশ স্টল দখলমুক্ত করার এক ঘণ্টা পর ফের দখলের অভিযোগ

বরগুনার আমতলীতে মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভাড়া দেওয়া স্টল পুলিশ দখলমুক্ত করার এক ঘণ্টা পর আবারও দখল করে মালামাল রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান সরদারের বিরুদ্ধে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমতলী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টলের তালা খুলে সেটি দখলমুক্ত করে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর শাহজাহান সরদার আবারও স্টলটিতে মালামাল রেখে দখল করেছেন বলে অভিযোগ করেন মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু তাহের। যদিও শাহজাহান সরদার দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, ২০১০ সালে আমতলী উপজেলার মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার জমিতে মানিকঝুড়ি স্ট্যান্ডে সাতটি স্টলঘর নির্মাণ করে। এরপর থেকে স্টলগুলো ভাড়া দিয়ে আসছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মাদ্রাসা ভবনের সামনে থাকা একটি স্টল গত ১ আগস্ট ব্যবসায়ী মো. সফিকুল ইসলাম রিপন তালুকদারকে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে তিনি পশু ও মাছের খাদ্য বিক্রি করে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার রাতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারের নির্দেশে উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান সরদার স্টলটি দখলের উদ্দেশ্যে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ী রিপন তালুকদার। তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পশু ও মাছের খাদ্য স্টলটির ভেতরে আটকা পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু তাহের শুক্রবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। শনিবার বিভিন্ন পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টলের তালা খুলে দখলমুক্ত করে।

তবে পুলিশ চলে যাওয়ার এক ঘণ্টা পরই স্টলটিতে আবার মালামাল রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন মাদ্রাসার সুপার। তাঁর দাবি, শ্রমিকদল নেতা শাহজাহান সরদার স্টলটিতে মালামাল রেখে আবারও দখল করেছেন। তাঁকে নিষেধ করা হলেও তিনি তা শোনেননি।

মাওলানা আবু তাহের আরও বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরকে অনুরোধ করেছিলেন, শাহজাহান সরদারের মালামাল যেন স্টলে না রেখে মাদ্রাসায় রাখা হয়। কিন্তু তাঁর অনুরোধও রাখা হয়নি। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্টল নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতার এমন কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা শ্রমিকদলের সহসভাপতি মো. শাহজাহান সরদার বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকির ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই মালামাল নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে স্টলটিতে রাখা হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, পুলিশ পাঠিয়ে মাদ্রাসার স্টলটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।