মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ , আজকের সময় : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

পটুয়াখালীতে মা ইলিশ রক্ষায় ৩৭৭ অভিযান, জব্দ ১৬ লাখ মিটার জাল

মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে পটুয়াখালীর নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় কঠোর নজরদারি চালিয়েছে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ১৮ দিনে ৩৭৭টি অভিযান ও ৯২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ১ দশমিক ০০৭ মেট্রিক টন ইলিশ ও ১৬ লাখ ৬২ হাজার মিটার অবৈধ জাল। আইন অমান্য করায় ১৫৪টি মামলা, ১৩৮ জনের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ সমন্বয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভিযানে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করেছে কোস্টগার্ড, পটুয়াখালী জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ, নৌবাহিনী এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। জেলার সব উপজেলায় সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে এ সময় নদ-নদী ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা, ইলিশ আহরণ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের ৮ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযানসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ দিনের কার্যক্রমে ৩৭৭টি অভিযান ও ৯২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। এ সময় ১ দশমিক ০০৭ মেট্রিক টন ইলিশ এবং ১৬ লাখ ৬২ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ১৫৪টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৩৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর। সরকারি সহায়তার আওতায় তালিকাভুক্ত ভিজিএফ কার্ড ধারী জেলেদের চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। একদিকে জেলেদের সহায়তা, অন্যদিকে অবৈধভাবে মাছ ধরা ও পরিবহন বন্ধে নজরদারি—দুই দিকেই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা প্রায় শেষের পথে। নিষেধাজ্ঞার সময় তালিকাভুক্ত জেলেদের সরকারি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী ও সাগরে নেমে অবৈধভাবে মাছ ধরা এবং মাছ পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষা, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা-পরবর্তী সময়েও নিয়মিত ঝাটকা ও অবৈধ মাছ ধরার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি। এছাড়াও মৎস্যজীবী, মাছ বিক্রেতা ও সাধারণ নাগরিকদের সামাজিক সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বিপুলসংখ্যক জেলে নদী ও সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। তাই মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান জোরদারের পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযান ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।