চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান পৌঁছেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে তকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রাসহ নিয়ে যাওয়া হয় ইম্পেরিয়াল হোটেলে। জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা এ হোটেলে অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার প্রতিনিধি দলে আছেন—অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রতিনিধি দলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমানও আছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের এটি তৃতীয় রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছিলেন।
এর বাইরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হবে মঙ্গলবার সকালে। বৈঠকের পর আসবে যৌথ ঘোষণা।
ঘোষণায় কী থাকতে পারে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি আভাস দিয়েছে জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই।
সংবাদপত্রটির বরাতে রয়টার্স লিখেছে, ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩৬ কোটি ডলারের বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে জাপান। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তারা এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায়।
নিক্কেইয়ের খবর অনুযায়ী, বিনিয়োগের বড় একটি অংশ ব্যয় হতে পারে গাড়ি ও জ্বালানি স্থাপনা নির্মাণের পেছনে।
তবে নিক্কেইয়ের এ প্রতিবেদন নিজেরা আলাদাভাবে যাচাই করতে না পারার কথা বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।