মনজুর মোর্শেদ তুহিন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ার আহ্বান

‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে র‍্যালিটি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হাত ধোয়া কেবল ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অংশ নয়, এটি সুস্থ জীবনযাপন ও রোগ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। খাবার খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর এবং ময়লা-আবর্জনা স্পর্শ করার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই এ অভ্যাস তৈরি করা গেলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে সাবান ও নিরাপদ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাসের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার (কুট্টি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহসিন উদ্দিন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহাঃ মুজিবুর রহমান। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ পানি, সাবান এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে হাত ধোয়ার অভ্যাস আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনাচরণ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।