আন্তর্জাতিক ডেস্ক: , আপলোডের সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা: মানবত্রুটিতে ৬৪ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মানবত্রুটির কথা উঠে এসেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির তোলেদো প্রদেশে মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ দুর্ঘটনাস্থল তোলেদো প্রদেশে এবং মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেলপথে বলে জানিয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেন একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় কয়েকটি বগি রেলপথের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়।

কাস্তিয়া লা মাঞ্চা অঞ্চলের মুখপাত্র এস্থার পাদিল্লা জানান, রেনফের ট্রেনটিতে ৩৯৭ জন এবং ইরিওর ট্রেনটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের সহায়তা করেন।

এনডিটিভি জানিয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মানবিক ভুলের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রেলপথের সংকেত ব্যবস্থার একটি ত্রুটি মেরামতের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী বিপরীত দিক থেকে আসা ইরিওর ট্রেন সম্পর্কে এভিই দ্রুতগতির ট্রেনটিকে সতর্ক করতে ব্যর্থ হন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

ইরিও কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তাসংক্রান্ত জরুরি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

একই বছরে দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা: স্পেনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কে চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারিতে আদামুজ এলাকায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। ওই দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত হন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবারের দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বার্তায় তিনি বলেন, তোলেদোর ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনি মর্মাহত। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সেবার কর্মীরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।