দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : , আপলোডের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

দুমকিতে সরকারি রেকর্ডিয় হালট দখল করে পারিবারি কবরস্থানের প্রাচীর নির্মান: অবরুদ্ধ সাংবাদিক পরিবার

পটুয়াখালীর দুমকিতে লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের রেকর্ডীয় হালট দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুমকি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জব্বার সিকদারসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় এক সাংবাদিক পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্তদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার ২নং লেবুখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী পারিবারের সদস্য হলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার দুমকি উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন। তাদের বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ করে আঠারগাছিয়া মৌজার দাগটি সরকারি রেকর্ডে হালট হিসেবে চিহ্নিত জমিতে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

দুমকি উপজেলা বিএনপির ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক আবু সালেহ খোকন ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইফুল্লাহসহ অনেকেই দাঁড়িয়ে থেকে দেয়াল নির্মাণের কাজ করাচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের সরকারি হালটটি  কার্তিকপাশা ও আঠারোগাছয়া গ্রামের জন সাধারনের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সরকারি হালটের ” “দক্ষিন আঠারগাছিয়া বায়তুল হাসান জামে মসজিদের” উত্তর পাশ দিয়া ২০শতকের মতো জমি কবরস্থানের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মান করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, বিএনপি নেতা আবদুর জব্বার সিকদার এর পুর্ব পুরুষদের সরকারি হালটে কবরস্থ করার মধ্যদিয়ে এ দখলের সূচনা করে। এখন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রচীর নির্মাণ করে পুরাপুরি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি প্রশাসনের নিকট দাবি করেন যেহেতু জমিটি সরকারি রেকর্ডে হালট হিসাবে চিহ্নিত তাই জন সাধারনের চলাচলের  জন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তাদের চলাচলের পথ নিশ্চিত করা হউক।

তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করে জমিটির মালিকানা ও ব্যবহারের বিষয় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার সিকদার ও তার ভাই আবু সালেহ খোকন বলেন, সরকারি হালট হলেও জায়গাটি তাঁদের বাপ-দাদার আমলের পারিবারিক কবর স্থান, তাই পারিবারিক কবরস্থান রক্ষায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত মো: আবু মুছা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে  এসেছে ইতোমধ্যে আমি আমার তহশিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তীতে সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণে যদি আমাদের যায়গায় স্থাপনা থাকে সাথে সাথে উচ্ছেদ করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারন এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে ভূমি প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।