বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৯৬ বছর ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য বহন করে আসছে পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদ। দীর্ঘদিন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে মসজিদটির অবকাঠামো মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে নামাজে দুর্ভোগ, নেই মুসল্লিদের জন্য টয়লেট ও অজু-প্রস্রাবের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে স্থানীয় মুসল্লিদের।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটির দেয়ালের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লোর ও কাঠের বারান্দার পলেস্তারা খসে পড়েছে। উপরের ছাউনির টিনে মরিচা ধরে বিভিন্ন স্থানে ফুটো ও ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে মসজিদের ভেতরের নামাজের জায়গা ভিজে যায়। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে মসজিদটিতে মুসল্লিদের জন্য কোনো টয়লেট বা প্রস্রাব-পায়খানার নির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে এমন মৌলিক সুবিধা না থাকায় নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের বিশেষ করে বয়স্ক ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যক্তিদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মসজিদটির সামগ্রিক সংস্কারের পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা স্থাপন এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মসজিদের দরজা-জানালার অবস্থাও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশের এমন জরাজীর্ণ অবস্থায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন মুসল্লিরা। বিশেষ করে বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মসজিদটিতে নামাজ আদায় আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক ফকির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির সংস্কার প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে বড় ধরনের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে যতটুকু সম্ভব, মুসল্লিরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে মসজিদের অবস্থা এতটাই নাজুক যে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া নিরাপদে নামাজ আদায় করা কঠিন।
মসজিদের ইমাম ও খতিব মোঃ তৈয়বুর রহমান তোহা বলেন, মসজিদটির ছাদ ও বিভিন্ন অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে নামাজের জায়গা ভিজে যায়। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধাও নেই। দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
মুসল্লি মোঃ জাকির হোসেন, সোহেল হাং, নুরুজ্জামান ও মোঃ মোশারফ হাওলাদার বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি রক্ষায় এখন সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বড় ধরনের সংস্কার, ছাদ মেরামত, নিরাপদ দরজা-জানালা স্থাপন এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের মতো কাজ স্থানীয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এই ধর্মীয় স্থাপনাটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। মসজিদটির জরাজীর্ণ অংশ সংস্কারের পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য টয়লেট, প্রস্রাবের নির্দিষ্ট স্থান ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নির্মাণে সরকারি অনুদান দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মসজিদটির ঐতিহ্য, বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা এবং স্থানীয় মুসল্লিদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মসজিদটির সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।