শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জে দেশ অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে নিশানবাড়ীয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ফেনীতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেলে ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন চীনের জাতীয় দিবসে শি জিনপিংকে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা স্বৈরাচার-গুপ্ত এক হয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য ঘোষণা ফেনীর ‘মুহুরী-কহুয়া’ সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রূপপুরের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে, ভাল্ব পরীক্ষা সফল এমপি ফেরদৌসীর পদত্যাগ:শুধু সাংগঠনিক পদক্ষেপ মোটেই যথেষ্ট নয়: শফিকুর রহমান ডেঙ্গু মোকাবিলায় ৫ লাখ টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভূমিকম্পে যেসব এলাকা বেশি ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮৪৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ফেব্রুয়ারিতে দেশবাসী ১০টি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভব করেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ২ দফা কম্পন আলাদা করে ধরলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১১।

শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে অনুভূত হয় একটি মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন। উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকা। পশ্চিমের জেলা সাতক্ষীরায় সৃষ্ট কম্পন রাজধানী ঢাকা হয়ে পূর্বে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অনুভূত হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৪, যা মাঝারি মাত্রার।

চলতি মাসের শুরু থেকেই একের পর এক কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে একাধিকবার কেঁপে ওঠে দেশ; সেদিন সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড হয়।

একই সময়ে মায়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরো দুটি কম্পন টের পাওয়া যায়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মায়ানমারে।

২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের সিকিমে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারির ৫ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১০।

এর আগে গত নভেম্বরে ঘন ঘন ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের অধিকাংশ এলাকা। নিহত হন ১০ জন, আহত হয় ছয় শতাধিক।

পরদিন তিনটি ভূমিকম্প হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে একের পর এক ভূকম্পে বারবার কেঁপে ওঠে দেশ। তখন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না- প্রস্তুতি বাড়াতে হবে এখনই।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, ফলে এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ঐতিহাসিকভাবেই বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাতক্ষীরা অঞ্চল তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও উত্তর ও পূর্বাঞ্চল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকাকে মাঝারি ঝুঁকির মধ্যে ধরা হলেও ঘনবসতি ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ভিতরে ছোট ছোট অজ্ঞাতনামা ফল্ট লাইন চিহ্নিত করা জরুরি। রাজধানী ও চট্টগ্রামকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নগরী হিসেবে চিহ্নিত করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রাজধানীতে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) ও জাইকার যৌথ জরিপে বলা হয়, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অন্তত ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে তৈরি হবে ৭ কোটি টন কংক্রিটের স্তূপ।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তথ্যানুযায়ী, নগরীর ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবনের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..