বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ৬ বিঘা জমির আমন চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ মোরেলগঞ্জে ২৩ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের বদলি আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার ছাড়াই চলছে চালকল, দূষিত হচ্ছে খাল-ফসলি জমি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৩৯ কিশোরগঞ্জের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র চন্দ্র ভৌমিকের পরলোকগমন কাঁঠালিয়ার কৃতি সন্তান মোঃ শামসুল হক সুমন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের সভাপতি নির্বাচিত নান্দাইলে ৬টি অবৈধ জাল উদ্ধার, জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস ১০০ মুসল্লিকে ওমরাহ করানোর সুযোগ করে দেয়ার ঘোষণা মাহমুদ হোসেন টিটুর, প্রথম ধাপে গেলেন পাঁচজন মোরেলগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ

আজ মহান মে দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৫৮১৭ বার পঠিত
শ্রমজীবী মানুষরা--------------------------------------ছবি: সংগৃহীত

সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজ পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, সেবা সব খাতেই শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, যা দেশের প্রধান রপ্তানি খাত, সেখানে লাখো শ্রমিকের ঘাম ও শ্রমে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার। কিন্তু এই অবদানের বিপরীতে শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে কতটুকু এ প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০০৬ সালের শ্রম আইন এবং এর পরবর্তী সংশোধনীগুলো শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা, মজুরি, ছুটি, নিরাপত্তা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে। তবে বাস্তবতার চিত্র সবসময় আশাব্যঞ্জক নয়। অনেক ক্ষেত্রেই শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় না। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এখনও আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে।

মে দিবস এলে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা এসবই শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৈরি পোশাক খাতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও অন্যান্য খাতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, পরিবহন শ্রমিকদের জীবনযাত্রা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত।

অন্যদিকে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের ফলে শ্রমবাজারেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অটোমেশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, গিগ ইকোনমি এসবের কারণে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। ফলে অনেক শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন, আবার নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃপ্রশিক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মে দিবসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা। আমাদের সমাজে এখনও অনেক ক্ষেত্রে শ্রমকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। অথচ একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে তার শ্রমশক্তির ওপর। তাই শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষেরও দায়িত্ব। শ্রমিকদের প্রতি সহমর্মিতা, সম্মান ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করাই হতে পারে মে দিবসের প্রকৃত চেতনা।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..