রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির তিন সংসদ সদস্য ভোট দেননি। তাদের মধ্যে দুইজন অসুস্থ একজন বিদেশে অবস্থান করছেন। জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য বিদেশে থাকার কারণে ভোট দিতে পারেননি।
এদিকে বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে তার ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে পৃথক কোনো কারণ জানা যায়নি।
আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়। এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা
আরেকজন ভোট না দেওয়া ব্যক্তি হলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন)। ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এ নির্বাচন অর্থহীন এবং প্রহসনের। ভোট না দেওয়ার পক্ষে তিনি তিনটি কারণও তুলে ধরেছেন।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের (জোটের) প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও ছয়জন ভোট দেননি।
ভোটগ্রহণ শেষে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন না ছয় সংসদ সদস্য। তারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দীপ) আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতাজনিত কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি। মোস্তফা কামাল পাশাও অসুস্থ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উপস্থিত হতে পারেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে তার ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে পৃথক কোনো কারণ জানা যায়নি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বিএনপি কিংবা ১১ দলীয় জোটের যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে ভোটকক্ষে দেখা যায়নি।
রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।
ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।
তৃতীয় কারণকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?
এদিকে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান লন্ডনে ও সংসদ সদস্য ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
ওসমান ফারুকের ব্যক্তিগত সহকারী মেজবাহ উদ্দিন টুটুল জানান, সংসদ শেষ হওয়ার পর দল থেকে ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান ড. ওসমান ফারুক।
দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দলীয় সংসদ সদস্য না হওয়ায় স্বতন্ত্র সদস্যরা দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনকে ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচনে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন নির্বাচনি কর্তা সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন।