শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে চীন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে দুই বছরের শিশুকে সড়কে ফেলে পালালেন মা, মানবিকতায় পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও মোরেলগঞ্জে ৯৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদের বেহাল দশা মির্জাগঞ্জে শালীসি নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীর জমি বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ-ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতাদের ঘিরে তোলপাড়! ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৭৩২ মামলা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে দেশ-বিদেশের অভিনন্দন যেসব কারণে ৬ এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি

কুয়াকাটায় রাখাইনদের মহা সাংগ্রাই জলকেলী উৎসব—ঐতিহ্য, পবিত্রতা আর আনন্দে মুখর সমুদ্রপাড়

মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৮০৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

রাখাইন মহা সাংগ্রাই জলকেলী উৎসব শুধু একটি পানি খেলার আয়োজন নয়; এটি ধর্মীয় পবিত্রতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য সম্মিলন, যা বিশেষ করে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের কাছেও বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

এই আবহেই কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মাহা সাংগ্রাই জলকেলী উৎসব-১৩৩৮। কুয়াকাটা ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট মাঠে আয়োজন করা হয়েছে এই বর্ণিল উৎসবের।

রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী এ উৎসব পালিত হচ্ছে। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে নববর্ষের প্রথম তিন দিনই জলকেলীতে মেতে ওঠেন রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ। দ্বিতীয় দিনে এসে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন রাখাইন পল্লীতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।

উৎসবের শুরুতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিতে পবিত্র জল ঢালা এবং দান-খয়রাতের মাধ্যমে পুণ্য অর্জনের প্রথা পালন করা হয়। এর মাধ্যমে পুরনো বছরের গ্লানি ও অশুভকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় তারা।

উৎসবের প্রধান আকর্ষণ জলকেলী পর্বে অংশগ্রহণকারীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে তোলেন। এই জলকেলী কেবল বিনোদনের নয়, বরং পাপ-পঙ্কিলতা ধুয়ে ফেলে নতুন জীবনের সূচনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। ঐতিহ্যবাহী রাখাইন পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল হয়ে ওঠে রঙিন ও প্রাণচঞ্চল।

আগামী ১৭ এপ্রিল সমাপনী দিনে এই আয়োজন পাবে চূড়ান্ত রূপ। এদিন কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন রাখাইন পাড়া-মহল্লার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা রাখাইন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা এতে অংশ নেবেন। ফলে কুয়াকাটায় বসবে এক বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।

স্থানীয়দের মতে, এই উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি রাখাইনদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

ধর্মীয় অনুশাসন, সংস্কৃতির বর্ণিল প্রকাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রাখাইনদের মহা সাংগ্রাই জলকেলী উৎসব হয়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের এক অনন্য ঐতিহ্যের প্রতীক।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..