বরগুনার বেতাগী উপজেলায় নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাশয় ও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চায়না দুয়ারী জাল অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এর ফাঁদে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী নির্বিচারে আটকা পড়ে। এতে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের উৎপাদন এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের জালের ব্যবহার জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ কারণে বেতাগী উপজেলা প্রশাসন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থান থেকে চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়। নিষিদ্ধ এ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং জলজ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম বলেন, “চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহারে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের জাল ব্যবহার থেকে উপজেলার জেলে ও সাধারণ মানুষকে বিরত থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে।”
স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, চায়না দুয়ারী জালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেলেসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রশাসনের অভিযান ও জনসচেতনতা একসঙ্গে জোরদার করা গেলে দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।