মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
তাড়াইলে জাতীয় ছাত্র শক্তির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবতাবিরোধী মামলায় কাদের-নাসিমসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বেতাগীতে পৃথক ঘটনায় গৃহবধূ ও যুবকের মৃত্যু কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী মির্জাগঞ্জে মাছের ঘের থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন গ্রেফতার, মামলা দায়ের দেশে আরো একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ২০২৪ সালে পরিদর্শন কর্মকর্তার মন্তব্যের পরও ২০২৫–২৬ সালের হাজিরা নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে থুতু নিক্ষেপ ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড একই অভিযোগে বারবার জরিমানা, তবুও বদলায়নি রহমানিয়া পাম্প

স্বপ্ন পূরণ হলোনা, কফিনে বন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন সৌদি প্রবাসী

রিপোর্টারের নাম
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৮০৪ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত

বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসন্ডা গ্রামের সবুজ হাওলাদার সৌদিতে হত্যার শিকার হয়েছেন। আজ (শনিবার) সকালে তার কফিনবন্দি লাশ দেশে এসেছে।

পাঁচ বছরের সন্তানের ভবিষ্যৎ, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা এবং প্রতিবন্ধী বোনের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার স্বপ্ন নিয়ে চার বছর আগে সৌদি পাড়ি জমিয়েছিলেন সবুজ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবের ওয়াদি আল-দাওয়াসির এলাকায় কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার আলী ও আবুল হোসেনের কাছে সবুজের প্রায় ১০ হাজার রিয়াল পাওনা ছিল। সেই পাওনা রিয়াল চাইতে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন। এর আগে একবার তাকে মারধর করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় পাওনা টাকা চাইলে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেওয়া হয় এবং গাড়ি তার ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় সৌদি পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে সৌদি আরবের কারাগারে রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর সবুজের মরদেহ দীর্ঘদিন সৌদি আরবের ওয়াদি আল-দাওয়াসির জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ছিল। আইনি জটিলতা ও ইকামা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগে।

আজ সকালে বিমানবন্দর থেকে সবুজের কফিন গ্রহণ করেন তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম ও ভাতিজা সোহেল রানা। পরে বিকালের দিকে মরদেহ নিজ গ্রামে পৌছায়।

যে মায়ের চিকিৎসার জন্য সবুজ প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সেই অসুস্থ মা ছেলের মরদেহের পাশে বুক চাপড়ে আহাজারি করছিলেন। বাড়ির উঠানে সবুজের খাটিয়ার পাশে নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন তার বাকপ্রতিবন্ধী বোন।

সবুজের ভাতিজা সোহেল রানা অপু বললেন, ‘আমার চাচাকে পরিকল্পিতভাবে ও অত্যন্ত নির্মমভাবে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নানা জটিলতা পেরিয়ে আমরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনেছি। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

কান্নায় ভেঙে পড়ে সবুজের বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার পুতের কোনো দোষ আছিল না। সে খালি নিজের কষ্টের ট্যাকা ফেরত চাইছিল। হ্যারা আমার বুক খালি কইরা পুতডারে মাইরা ফালাইল। এহন আমার এই এতিম নাতি আর প্রতিবন্ধী মাইয়াডারে নিয়া আমি কোনহানে যামু? আমি আল্লাহর কাছে আর সরকারের কাছে এই খুনিগো ফাঁসি চাই।’

হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. মুক্তা বেগম বলেন, “সবুজের এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যু পুরো ইউনিয়নবাসীর জন্য এক গভীর বেদনার বিষয়। সে ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি আজ পুরোপুরি নিঃস্ব ও অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকব এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করব। একই সাথে সৌদি আরবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..