ময়মনসিংহ নগরীতে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন, এক দম্পতি এবং সিএনজি অটোরিকশার চালক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার দড়ি হামিদপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তাঁর মা মোর্শেদা বেগম (৮৩), মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনাল (৫)। তাঁরা গাজীপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহত অপর তিনজন হলেন সিএনজি চালক সুজন সরকার (৪৫), নান্দিনা উপজেলার আকরাম হোসেন (৩১) ও তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৫)।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস আকুয়া বাইপাস সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় জামালপুর থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের চাপায় সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সিএনজিতে থাকা সাতজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হলেও এর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁরা সড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণে আকুয়া বাইপাসে ঢাকা-জামালপুর সড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাজীব পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁদের অভিযোগ, বাইপাস সড়কটিতে অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা রোধে এলাকায় স্পিডব্রেকার নির্মাণের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে জানান তাঁরা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাস উদ্দিন জানান, সিএনজি অটোরিকশার ভেতর থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।