রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মির্জাগঞ্জে শালীসি নামে সনাত ধর্মাবলম্বীর জমি বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ-ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতাদের ঘিরে তোলপাড়! সামিট-এক্সিলারেট চালু: জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট আজ ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ সান্তাহারে হাজীর বিরুদ্ধে পুকুর দখলের অভিযোগ; আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ আটক নান্দাইলে এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা নান্দাইলে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মরণোত্তর বীমা দাবির চেক প্রদান ও কর্মী উন্নয়ন মিটিং রূপগঞ্জের বিক্রমপুর স্টিল মিলের বিস্ফোরণে শ্রমিক নিহত কানুরামপুর-ত্রিশাল সড়কের নতুন বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পরিদর্শনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

মির্জাগঞ্জে শালীসি নামে সনাত ধর্মাবলম্বীর জমি বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ-ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতাদের ঘিরে তোলপাড়!

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এক প্রবীণ সনাতন ধর্মাবলম্বীকে মানসিক চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বসতভিটার জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা এবং পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির (শালিসির) নামে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা এবং এ সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথন  ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো উপজেলা জুড়ে চরম ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্য জমি বিক্রির চাপ:

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২ নম্বর মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তার বাড়ি এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা পরিতোষ বাবুর ছেলে শিশিরের সঙ্গে নেত্রকোনায়  এক তরুণীর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছেলেটি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করলে এই ঘটনাকে পুঁজি করে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক  মোহাম্মদ আলম  এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মন্টু ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন।

​লাগতাড় ভয়ভীতি প্রদর্শনের একপর্যায়ে অসুস্থ পরিতোষ বাবুকে তার বসতভিটার প্রায় ২০ শতক জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে জমি বিক্রির ৪ লাখ  টাকা শালিসকারীরা নিজেদের মধ্যে হস্তগত করেন। , পরিতোশ বাবুর ভাষ্য মতে টাকা নেওয়ার পর প্রবীণ ও অসুস্থ পরিতোষ বাবুকে একটি দোকানে আটকে রাখা হয় এবং ঘটনাটি পুলিশ কিংবা কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে বাধা দেওয়া হয়।

অডিও ফাঁস অর্থ বণ্টনের অভিযোগ:

ঘটনা সংক্রান্ত একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে এক সাংবাদিক ও  পরিতোশ বাবুর আলোচনায়  আর্থিক লেনদেনের মূল চিত্র উঠে আসে। অডিও  এবং স্থানীয় তথ্যানুযায়ী,  অর্থ আত্বসাতের মুল মাস্টার মাইন গোলাম সরোয়ারের ভাষ্যমতে ভূক্তভোগি  মেয়ে আখি আক্তারের সাথে শিশিরের বিয়ের দেনমোহর ছিল ১ লাখ টাকা। এখানে এই জামেলা  মেটাতে শালিসগন  ৫ লাখ টাকার পরিতোশ বাবুর কাছে দাবি করে।  পরবর্তীতে  আলোচনার মাধ্যমে  অভিযোগকারি নারী আখি আকতারকে ৪ লাখ টাকা  দিয়ে  শিশিরকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সরোয়ারের ভাষ্য মতে আখি আক্তারকে ৪ লাখ টাকা পুরোটাই দিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন তথ্য উপাথ্য থেকে পাওয়া যায়  আদায় করা অর্থের বড় একটি অংশ শালিসকারীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন এবং মেয়েকে মাত্র ১ লাখ  দিয়ে বিদায় করা হয়।

এসব  অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার দাবি করেন, “ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে পরিতোশ বাবুর পরিবারটিকে বাঁচাতে এবং এলাকার সামপ্রদায়িক শান্তি বজায় রাখতেই অসুস্থ পরিতোশ বাবুর  অনুরোধে প্রায় ২০০ মানুষের উপস্থিতিতে শালিস করা হয়। শালীসিতে বিয়ের  কাবিন, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য খরচসহ মোট ৪ লাখ টাকা সরাসরি মেয়ের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম মেনে কাজী অফিসের মাধ্যমে তালাক রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। শালিসদের কেউ কোনো টাকা নেননি।” খোদ উল্ট কথা বলে ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মন্টু মিয়া, তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ​মেয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে  মির্জাগঞ্জ থানার ওসির মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা  মেয়ের ব্যাংক একাউন্টে, জমা দিয়ে ভিডিও করে রাখা হয়েছে। ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে এবং বাকি টাকা আইনি ও প্রশাসনিক খরচে ব্যয় হয়েছে। ঘটনার আর একজন শালিস ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন যে পরিতোশ বাবুর ছেলে আর আখির বিষয়টি নিয়ে একটি শালিসী হয় মির্জাগঞ্জ থানায় বসে এখানে ওসি তদন্তের মাধ্যমে তার রুমে বসে শালিস মিমাংসা হয় এবং ওসি তদন্তের মাধ্যমে মেয়েকে সম্পর্ন টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে,  সম্পুর্ন টাকা বলতে কতো টাকা দেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি এরিয়ে জান। তাদের পাঠানো ভিডিওতে দেখা যায় কোন একটা পাকা ভবনের মধ্যে এই ভিডিওটা করা হয়েছে তবে আমাদের অনুসন্ধন বলে ভিডিওটা সরোয়ার মেম্বারের বাসভবন। এখানে উলেখ্য, তিনজন শালিস তিন রকমের বক্তব্য দিয়েছে যার রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য:

বিষয়টি নিয়ে মির্জাগঞ্জ থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওসি  জানান, পারিবারিক এই বিরোধের বিষয়টি জানা থাকলেও ৪ লাখ  টাকার আর্থিক লেনদেন বা জমি বিক্রির বিষয়ে পুলিশ কিছুই অবগত ছিল না। কোনো আর্থিক  সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে পুলিশ। এখানে মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানায়, ভুক্তভোগী পরিবার ৪ লাখ টাকার বিষয়  লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসি তদন্ত বলেন আমার নাম কেন আসলো আমি এই বিষয় কিছুই জানি না।

জনমনে ক্ষোভ প্রতিকারের দাবি:

ঘটনার অডিও  ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি এবং প্রবীণ সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে  শালিসের নামে বিএনপির এই তিন খলিপার কাছথেকে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং জড়িত প্রভাবশালীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..