বাগেরহাটের শরোনখোলা উপজেলায় প্রবাসী ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী আরিফুল ইসলাম মাসুমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরোনখোলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম অভিযোগ করেছেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে নিজ বাসভবনে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এমপি জানান, গত ১ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জেরে মাসুম ও আফজাল নামের এক ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের সময় মাসুম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে শরোনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি দাবি করেন, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকের তথ্যে এটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টজনিত মৃত্যু বলে জানা গেছে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি। “একটি সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,” বলেন তিনি।
এমপি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-র কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি দলটির কেউ নন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মামলার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম (প্রবাসী, মালয়েশিয়া) উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তবে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাত আটটার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে খাবার খেয়ে ফেরার পথে স্থানীয় কয়েকজনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল তার পথরোধ করে মারধর করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন দাবি করেন, পূর্বের রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে শরোনখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামিনুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
এমপি আব্দুল আলীম আরও জানান, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় থেকেই সাউথখালী ইউনিয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও তিনি একাধিকবার এলাকা সফর করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বদলীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, সংবেদনশীল এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সবশেষে এমপি নিহত মাসুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।”