বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের আমবাড়ীয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি দোতলা কাঠের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমবাড়ীয়া গ্রামের মৃত প্রফুল্ল শিকদারের দুই পুত্র প্রদীপ কুমার শিকদার ও প্রভাস কুমার শিকদারের বসতঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিলিং ফ্যানের বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের উৎপত্তি ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিবারের কোনো সদস্য ঘরে উপস্থিত ছিলেন না; তারা পাশের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে আগুন দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
পরবর্তীতে প্রদীপ ও প্রভাসের মা শান্তি দেবী বাড়িতে এসে তালা খুলে দেখেন, পুরো ঘর আগুনে জ্বলছে। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
এ ঘটনায় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার (চেইন, আংটি, কানের দুল), রুপার গহনা, নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, সিলিং ও খাঁচা ফ্যান, গ্যাসের চুলা, রাইস কুকার, আসবাবপত্র, শোকেস, আলমারি, খাট, ট্রাঙ্কসহ সব গৃহস্থালি সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া বছরের খাদ্য মজুদ হিসেবে রাখা প্রায় ২৭ মণ চাল, ধান, ডাল, সরিষা, রবিশস্য এবং জমির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও আগুনে ধ্বংস হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, চার কক্ষবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন কাঠের দোতলা বসতঘরসহ মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকারও বেশি।
প্রদীপ ও প্রভাস—দুই ভাই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের সর্বস্ব পুড়ে যাওয়ায় তারা বর্তমানে নিঃস্ব ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
আপনি চাইলে এটাকে আমি ভয়েস স্ক্রিপ্ট বা পত্রিকায় প্রকাশযোগ্য ফরম্যাটেও সাজিয়ে দিতে পারি।