বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

আমতলীতে চাওড়া-বাসুগী খাল দখলে সহস্রাধিক স্থাপনা, কালভার্টের মুখে বালুর বাঁধে বন্ধ পানি প্রবাহ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৫৭ বার পঠিত

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার চাওড়া ও বাসুগী খাল দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা নির্মাণ করেছেন সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থাপনা রক্ষায় চৌরাস্তার কালভার্টের মুখ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন খালের দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। দ্রুত কালভার্টের মুখ খুলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং চাওড়া ও বাসুগী খালের দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, ১৯৮০ সালে আমতলী উপজেলা শহর রক্ষায় চাওড়া খালের ওপর ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকেই চাওড়া নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়। এতে আমতলী পৌরসভার একাংশ, চাওড়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও পচা পানির দুর্ভোগে ভুগছেন।

খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে ২০১৫ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তার ৪৩/১ পোল্ডারের বাসুগী ও চাওড়া খালের সংযোগস্থলে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের কিছুদিন পর থেকেই কালভার্ট, খাল ও খালের দুই পাড় দখল করতে শুরু করেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের দাবি, গত ১১ বছরে খালের দুই পাড়ে সহস্রাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি মাছ বাজার, কাঁচাবাজার, কসাইখানা ও বসতবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খাল ভরাট হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কালভার্টের একটি মুখে বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ তৈরি করে পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমতলীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও ওই কালভার্ট দিয়ে পানি নামতে পারছে না। ফলে চাওড়া খাল ও আশপাশের মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নকিব ও খালেক মিয়া বলেন, “কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে চাওড়া খালের পানি প্রবাহের জন্য। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের স্থাপনা রক্ষার জন্য কালভার্টের মুখে বালুর বাঁধ দিয়ে রেখেছেন। পানি নামলে তাদের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই তারা এটি করেছেন।”

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তার কালভার্ট, চাওড়া ও বাসুগী খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। খালের ওপরই গড়ে উঠেছে বাজার, কসাইখানা ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। কালভার্টের মুখে বালুর বস্তার বাঁধ থাকায় পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে কালভার্টের মুখ থেকে বালুর বস্তা সরিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হান্নান প্রধান বলেন, “খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..