বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

আমতলীতে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দুই শিক্ষকের স্কেল আবেদনের অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৫৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দুইজন শিক্ষকের বিএড ও টাইম স্কেলের জন্য আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদার সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী কাওসার আহম্মেদ, দুই শিক্ষক মোঃ আনিশা আক্তার, অলীউল্লাহ ও অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল করিম ভুয়া রেজুলেশন এবং প্রত্যয়ন ও অভিজ্ঞতা পত্রে আমার স্বাক্ষর জাল করে এ প্রতারনা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তার।

লিখিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুস হাওলাদার বলেন, মাদ্রাসার জীব বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা মোসাঃ আনিশা আক্তার তার বিএড স্কেল এবং আরবি শিক্ষক মোঃ অলী উল্লাহ তার টাইম স্কেলের জন্য সভাপতির বরাবর আবেদন করেছেন। এ আবেদনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। পরে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী কাওসার আহম্মেদ, দুই শিক্ষক মোসাঃ আনিশা আক্তার, অলী উল্লাহ ও অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল করিমের যোগসাজসে কমিটির স্কেলের ভুয়া রেজুলেশন, প্রত্যায়ন ও অভিজ্ঞতা সনদ তৈরি করেন। ওই কাগজপত্রে আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলেন, কিন্তু আমি ভুয়া কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিকে অস্বীকার করি। এরপর তারা আমার স্বাক্ষর জাল করে গত জুন মাসে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে তাদের কাগজপত্র অনলাইনে সাবমিট করেছেন। গত ১২ জুলাই বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমি এ কাগজপত্রে স্বাক্ষর না দেয়ায় আমাকে নানাভাবে হয়রানী করেছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী অধ্যক্ষের।

এ বিষয়ে অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল করিম বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতি কাগজপত্র গুচিয়ে আমাকে দিতে বলেছেন। আমি তাদের নির্দেশ ফলে করেছি। এর বেশী আমি কিছুই জানিনা।

সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ আনিশা আক্তার বলেন, আমি যোগ্যতা মোতাবেক অধ্যক্ষের বরাবরে বিএড স্কেলের আবেদন করেছি। অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি সঠিকতা যাচাই করে কাগজপত্র ঠিক করে দিয়েছেন। আমি শুধু অনলাইনে কাগজপত্র সাবমিট করেছি। এখানে আমি কেন অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করতে যাব?

সহকারী শিক্ষক মোঃ অলী উল্লাহ অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করার কথা অস্বীকার করে বলেন, টাইম স্কেলের সময় হওয়ায় অধ্যক্ষ বরাবরে আবেদন করেছি। অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি টাইম স্কেলের অনুমতি দিয়েছেন। তাই অনলাইনে কাগজপত্র সাবমিট করেছি।

মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী কাওসার আহম্মেদ বলেন, অধ্যক্ষ নিজের অপরাধ ধামাচাপা দিতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ তার নিজের নিয়োগ অবৈধ। এর আগে তিনি একটি মাদ্রাসায় জুনিয়র মৌলুভী হিসেবে চাকুরী করেছেন। তা গোপন রেখে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নিয়েছেন। এছাড়াও মাদ্রাসার পাঁচ লক্ষাধীক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফলে তাকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষের এমন কর্মকান্ড নিয়ে যখন কমিটির লোকজন কাজ শুরু করেছেন, তখনই তিনি এমন অভিযোগ তুলেছেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..