রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে হেরোইনসহ দুইজন আটক সালমান শাহর জন্মদিনে শাবনূরের অনুরোধ বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুতে বেতাগী প্রেসক্লাবের স্মরণসভা প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড.মাসুদের সাথে পিজেএফ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ৯ দফা দাবি পেশ সরকারি প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি রাজধানীর ২ শতাধিক চেকপোস্টে নিরাপত্তা জোরদার নিখোঁজ কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার মক্কা আল-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনায় বিসিআরএসের তীব্র নিন্দা

হরিরামপুর ফিটনেস সেন্টার এখন পরিত্যক্ত, উধাও দামি যন্ত্রপাতি

দিপংকর মন্ডল, হরিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি :
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৮০৫ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ব্যায়ামাগারটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। একসময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত এখানে শরীরচর্চা করলেও বর্তমানে এটি প্রায় পরিত্যক্ত। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ব্যায়ামাগারের দামি যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মূল্যবান যন্ত্রপাতিরও হদিস মিলছে না। সদস্য ফি বাবদ অর্থ আদায় করা হলেও সেই টাকার হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি শরীরচর্চার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন আগ্রহীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের তৃতীয় তলায় ‘হরিরামপুর ফিটনেস সেন্টার’ নামে ব্যায়ামাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহরিয়ার রহমান। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনুদান এবং ইউএনওর ব্যক্তিগত উদ্যোগের অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি গড়ে তোলা হয়।

ব্যায়ামাগারের জন্য কেনা হয় দুটি ট্রেডমিল, দুটি স্টেশনারি (স্পিনিং) বাইক, দুটি রোয়িং মেশিন, দুটি ওয়েট বেঞ্চ, একটি ল্যাট পুলডাউন মেশিন, একটি চেস্ট প্রেস মেশিন, আটটি ডাম্বেল, একটি বক্সিং ব্যাগ, দুটি টামি ট্রিমারসহ বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চার সরঞ্জাম। ২০২৩ সালের ২১ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ ব্যায়ামাগারটির উদ্বোধন করেন। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সদস্য ফি ছিল এক হাজার টাকা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন কেয়ারটেকারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

সরেজমিনে ব্যায়ামাগারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মাত্র পাঁচটি যন্ত্রপাতি পড়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি ট্রেডমিল, একটি ওয়েট বেঞ্চ, দুটি সিট-আপ বেঞ্চ এবং একটি ল্যাট পুলডাউন সংবলিত মাল্টি জিম মেশিন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রপাতিগুলো ধুলো-ময়লায় ঢেকে গেছে। কয়েকটি স্থানে মরিচাও ধরেছে। তবে ব্যায়ামাগারের বাকি দামি যন্ত্রপাতির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি দপ্তরের দুই কর্মকর্তা বলেন, সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও প্রয়োজন। ব্যায়ামাগারটি চালু থাকলে তারা নিয়মিত শরীরচর্চার সুযোগ পেতেন। কিন্তু একটি ভালো উদ্যোগ অবহেলার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

এডিপির প্রকল্প হওয়ায় ফিটনেস সেন্টারের ক্রয় করা যন্ত্রপাতি ও খরচের বিষয়ে তথ্য জানতে উপজেলা এলজিইডি অফিসে গেলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান জানান, তার দপ্তরে ফিটনেস সেন্টারের কোনো তথ্য নেই। এসংক্রান্ত কোনো ফাইলও তার দপ্তরে নেই। তিনি আরও বলেন, এখানে ফিটনেস সেন্টার নামে একটি ব্যায়ামাগার আছে, সেটি আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

সার্বিক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিজা বীসরাত হোসেন বলেন, কতগুলো যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছিল, বর্তমানে কতগুলো যন্ত্রপাতি আছে এবং কমিটিতে কারা ছিল বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..