বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপির উদ্যোগে অতিরিক্ত ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার বদলি আদেশ গায়েব করে এক যুগ ধরে সিএফ কার্যালয়ে হিসাবরক্ষক ইউছুপ: ৯ ডিভিশন থেকে মাসোহারা ও কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিস্ক্রিয় ও প্রতারক হজ্ব এজেন্সির পথ বন্ধের উদ্যোগ ১০ লক্ষ টাকার ঘুষ বাণিজ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশও তোয়াক্কা করেননি রেঞ্জ কর্মকর্তা কবির, এবার নতুন জালিয়াতির টিপিতে পদুয়ায় আটক ট্রাক ২ লক্ষ টাকার সমঝোতায় রাতের আঁধারে রফা গণপুর্তের প্রকৌশলী মইনুলের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রন পরিচালক মনিরুল ও কাইছারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে ২০ অথরাইজড অফিসারের ঘুষ বানিজ্য রমরমা ॥ দেখার কেউ নেই বিআরটিসিতে ‘জামিল সিন্ডিকেট’: এক বছরে দুই বদলি, কোটি টাকার সুবিধা বাণিজ্যের অভিযোগ ১৩ লাখ টাকা ঘুষ দিলে জাতীয় জাদুঘরে চাকরির টোটাল প্যাকেজ দিচ্ছে রেজিস্ট্রেশন সহকারী সুমন মিয়া

বিয়ের প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে অভিনেত্রী স্নিগ্ধাকে ‘টর্চার সেলে’ ২ ঘণ্টা নির্যাতন, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৫৩ বার পঠিত

হালের আলোচিত ঢাকাই সিনেমার মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে অ্যাপস্টিন কায়দায় টানা দুইঘণ্টা নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। একই সময় অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও শারীরিক নির্যাতন ও তার পায়ের নখ তুলে ফেলার দাবি করছেন তিনি।

হালের ঢালিউড বেশ কয়েকটি সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে স্নিগ্ধা চৌধুরী যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। পারিবারিক বন্ধন ও দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ এই নারী গসিপ আর সমালোচনার বাইরে ছিলেন দীর্ঘদিন।

তবে এবার খোদ এই নায়িকার অভিযোগ, তাকে গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টানা দুঘণ্টা হাত ও পা বেঁধে পেটানো, কুসুম গরম কফি গায়ে ঢেলে দেওয়া, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও সব শেষে কফিতে নেশাজাত/বিষাক্ত ড্রাগ মিশিয়ে পান করিয়েছেন তুমি দস্যুতায় অভিযুক্ত আশিয়ান গ্রুপের আলোচিত ব্যবসায়ী নজরুল। তিনি এসময় আরও দাবি করেন, তার সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও নির্যাতন করেন নজরুলের অনুচররা। তুলে ফেলে পায়ের নখ।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, বছর খানেক আগের পরিচিত ইমন নামের একজন কো-অর্ডিনেটরের ফোনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন চিত্রের মডেল হওয়ার অফার করা হয় তাকে। এ সময় ইমন জানায়, ৫০ লাখ টাকার এই কাজে সে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে দেবে ১৭ লাখ। তবে বিল ফাইনাল বা চুক্তি করতে যেতে হবে সেই কোম্পানিতে।

এ কথার সূত্র ধরে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে নিয়ে ২৪ জুলাই রাত সাড়ে আটটা নাগাদ স্নিগ্ধা চৌধুরীর বুকিং করা উবারে চড়ে রাজধানীর ৩০০ ফিটের পাশের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান তারা। স্নিগ্ধা চৌধুরী জানান, পৌঁছেই খটকা লাগে তার। তিনি ইমনকে প্রশ্ন করেন, ‘কিসের ফিঙ্গার প্রিন্ট কেন?’ জবাবে ইমন জানায়, ‘যেহেতু মালিক ভেতরে; তাই হয়তো বাড়তি নিরাপত্তা।’ ভেতরে ঢোকার পর দেখা মেলে সেখানে বসে আছেন আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। আশেপাশে আছেন তার বিশ্বস্ত অনুচর পলাশ, পিএস মিয়ামিসহ বেশ কয়েকজন।

শুরুতেই সামান্য আলাপচারিতার মাঝেই আসে চা, নাস্তা, কফি, খেজুর বিস্কুট। বলছিলেন ইশরাত। এরপর হঠাৎ করেই নজরুল চাঙ্গা হয়ে উঠেন। ইশরাতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তোরে কত বছর ধইরা খুঁজতাছি। আমি তোরে দুইবার বিয়া করছি। তোর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া না?’ স্নিগ্ধা চৌধুরীর দাবি, আশিয়ানের চেয়ারম্যান তাকে জেবা তাকিয়া উল্লেখ করে বলেন, ‘রুকিমি, তুই আমার কোটি কোটি টাকা খাইছস। এই ইমনরে লইয়া তোর মিরপুরের বাড়ির ল্যান্ডিংগা ৩০ লাখ টাকা দিয়া পণ্য কিবা নিসি।’ জবাবে স্নিগ্ধা জানান, তার বাড়ি উত্তরবঙ্গে।

এসময় নজরুল আবার বলেন, ‘তুই আমার লগে ফাইল করছস। কতদিন কত জাইগা ফোন তোরে আমি ধইরা আনসি। তুই আমার চেইকা টেকা লইয়া তোর বিদেশে থাক নাগরের নিয়ত। তোর আমারে আবার বিয়া করতে হইবো।’ এই কথা বলেই ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প সামনে ফেলেন নজরুল। হাত তুলে নেন তলোয়ার সদৃশ ধারাল অস্ত্র। মুহূর্তে পাল্টে যায় স্নিগ্ধা চৌধুরীর চেনা জগৎ। সোশ্যাল মিডিয়ার সিনেম্যাটিক চরিত্র অ্যাপস্টেইন চরিত্র যেন তারই সামনে উপস্থিত। নিজের আতঙ্কিত মুহূর্তের কথা এভাবেই ব্যক্ত করেন তিনি।

স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, ‘এসময় আমি কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি যতবারই বলছিলাম আমি তাকিয়া না, ততবারই খেপে যাচ্ছিলেন নজরুল। আমার সঙ্গে থাকা ইমন ইশারায় আমাকে তাকিয়ার অভিনয় করতে বলেন। সাদা দলিলে সই করে টিভিসির চুক্তির টাকা নিয়ে বেরিয়ে যেতে বলেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি বাধ্য হয়েই অন্য একটা ভূয়া নাম সই করে নেই বাঁচার জন্য।’

তবে সই করেও শেষ রক্ষা হয়নি। নজরুল এসময় বাসর রাত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন- দাবি ভুক্তভোগী স্নিগ্ধা চৌধুরীর। রুম থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে বেড টাইপ সোফায় শুইয়ে বসতে তলোয়ার উঠিয়ে নির্দেশ দেন নজরুল।

বাসর রাতের চাপ থেকে বাঁচতে পিরিয়ড (মাসিক) চলছে উল্লেখ করায় আরও খেপে যান নজরুল। তাকে তলোয়ার উঠিয়ে হত্যার হুমকি নিয়ে বাধ্য করে সোফায় বসতে। এরপর রশি বের করে বলেন, ‘রশি দেখছস? এটা দিয়ে ফাঁসি দেয়। বহু বড় বড় লোককে এটা দিয়ে ফাঁসি দিসি।’ বলেই স্নিগ্ধা চৌধুরীর আইফোন নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়। এসময় মোটা রশি দিয়ে প্রথমে স্নিগ্ধা চৌধুরীর পা বেঁধে নজরুল। রশি শক্ত করে বাধার ইশরাত নজরুলকে বলেন, ‘আমার রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’ এতে আরও উত্তেজিত হয়ে ইশরাতের ডান গালে চড় কসান নজরুল। সেসময় চেপে ধরে বেঁধে ফেলেন হাত। উপড়ে উঠে চেপে ধরেন গলা। সেসময় শোয়া অবস্থায় সে দুটো লাথি নিয়ে আসেন, স্নিগ্ধা চৌধুরীর দু পায়ের পাতায় মোটা লাঠি দিয়ে লাগাতার মোট ১৪ বার আঘাত করে সে। চুল ধরে বসিয়ে ঘাড়েও স্পাইনাল কর্ডের ওপরের অংশে ৫ থেকে ৭ বার সজোড়ে আঘাত করে বলে দাবি ইশরাতের। আঘাত করা হয় উরু, পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে।

নির্যাতনের এ পর্যায়ে উপস্থিত হন নজরুলের নবী পিএস মিয়ামি। নজরুল সেসময় খানিকটা শান্ত হয়ে কফি অর্ডার করলে হাত বাঁধা স্নিগ্ধা চৌধুরী আপত্তি জানান। তখন নজরুলের নির্দেশে স্নিগ্ধা চৌধুরীর হাতে কুসুম গরম কফি ঢেলে দেয় মিয়ামি। পরে সেটি পান করতে বাধ্য করা হয় যাতে মেশানো ছিলো নেশাজাত ড্রাগ।

কী করে পালালেন স্নিগ্ধা চৌধুরী? স্নিগ্ধা জানান, এক পর্যায়ে নজরুল হয়তো বুঝতে পারেন সে প্রকৃত জেবা তাকিয়া নন। তখন খুলে দেওয়া হয় হাত-পায়ের বাঁধন। তখন ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়া দরজা খোলা পেয়ে দ্রুত দরজা টপকে নজরুলের রুম থেকে বেরিয়ে সামনের বারান্দা নিয়ে দৌড় দেন তিনি। তারপর সেই বারান্দা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে পৌঁছে যান ৩০০ ফিট রোডে। সেখানে পার হওয়া চালককাবি একটি চলন্ত অটো থামিয়ে সেটাত উঠে বসেন। এভাবেই প্রাণে রক্ষা পান বলে জানিয়েছেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। দ্রুন আগরের এই বর্বরতার হাত থেকে বেঁচে ফেরা স্নিগ্ধা চৌধুরীর পুরো শরীর জুড়ে আঘাতের চিহ্ন। ঘরে পৌঁছেই সে অচেতন হয়ে পড়ে বলে দাবি তার পরিবারের সদস্যদের।

অভিযোগের সূত্র ধরে, ঘটনাস্থলের বিবরণ মেলায় অনুসন্ধানী দল। সেখানে পৌঁছে মেলে বর্ণনার সত্যতা- ডেকোর ফিঙ্গার প্রিন্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পালানোর বারান্দা, নজরুলের কক্ষ সবই ঠিকঠাক যার যার স্থানেই আছে। এছাড়াও বাস্তবই আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠ দুই কর্মচারীর একজন পলাশ, আরেকজন মিয়ামি। এছাড়াও স্নিগ্ধা চৌধুরীর মুঠোফোনের সেদিনে লোকেশন আর অবস্থানের সময়েও মিল পায় অনুসন্ধানী টিম। মিলেছে স্নিগ্ধা চৌধুরীর উবার বুকিং এর ডিজিটাল স্লিপও। আশিয়ান মেডিকেলের ভেতরে নজরুলের অফিস কক্ষে রয়েছে সুসজ্জিত অদৃশ্য আলাদা রুম আর সেখানেই তার টর্চার সেলের অবস্থান।

স্থানীয় বাসিন্দা কাঞ্চন মাষ্টার বলেন, এই জাইলাম নজরুল প্রায়ই বিভিন্ন লোককে তার টর্চার সেলে এনে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। কেউ তার ভয়ে টু শব্দ করেনা। হামলা তো অনেক পরের বিষয়। এলাকাবাসী তাকে বহুরূপী জাইলাম হিসেবে চেনে। তার এসব পাশবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। তার প্রতিষ্ঠানের ইমনকেও প্রায়ই এরকম নির্যাতন করা হয়। সে একজন সাইকোপ্যাথ।

এদিকে ভিডিও কলে ইমনকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে মিলেছে তার উপর চলা নির্যাতন ও নখ উপড়ে ফেলার প্রমাণ। ইমন এখনও অচেতন।

তবে অনুসন্ধান বলছে এই ইমনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা নজরুলের। পাশার চাল পালটে যাওয়ায় নজরুলের প্রকৃত শিকার জেবা তাকিয়াকে না পাওয়ায় কি এ নির্যাতন? নাকি ঘটনাস্থল থেকে স্নিগ্ধা চৌধুরী জীবিত পালিয়ে আসায় নজরুলের অ্যাপস্টেইন চরিত্রের হিংস্রতার শিকার ইমন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে আইন প্রয়োগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আশিয়ান গ্রুপের মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এসকল অভিযোগ মিথ্যা। পরবর্তীতে স্নিগ্ধা চৌধুরীর লোকেশন ট্র্যাকিং এর কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমি তাকে ৪ বছর আগে চিনতাম। তখন তাকে বলা হয় আপনি তো তাকে জেবা তাকিয়া ভেবে মেরেছেন? সে তো জেবা তাকিয়া না, তখন সে আগামীকাল সকালে দেখা করার কথা বলে লাইন কেটে দেন।

এ ঘটনায় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রোববার (২৬ জুলাই) রাতে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..