মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দেশে আরো একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ২০২৪ সালে পরিদর্শন কর্মকর্তার মন্তব্যের পরও ২০২৫–২৬ সালের হাজিরা নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে থুতু নিক্ষেপ ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড একই অভিযোগে বারবার জরিমানা, তবুও বদলায়নি রহমানিয়া পাম্প ঢাকায় হচ্ছে আরেকটি মেট্রোরেল, একনেকে উঠছে প্রকল্প স্থানীয় সরকার নির্বাচন ১২ নভেম্বর শুরু: ইসি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মঙ্গলবার রাত থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী নান্দাইলে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান বাড়াতে আন্তঃসংলাপ সান্তাহারে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ড

গণপুর্তের প্রকৌশলী মইনুলের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৮০৭ বার পঠিত

গণপূর্ত অধিদপ্তরের গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকার সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে দরপত্র আইডি ১২৫১৫৪২, ১২৩২৮০৬, ১১২০৭৩২, ১২৪৯৪১৬, ১৫১৫৪৫, ১১২০০২১ কাজগুলো থেকে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে। ২০২৪-২০২৫ সালেও মইনুল ব্যাপক অনিয়মের ও লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা যায়।

জানা যায়, মো. মইনুল ইসলাম ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি মুদ্রণালয়ে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকার বরাদ্দ পেয়েছেন। এই বরাদ্দে ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি মুদ্রণালয়ের দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের সীমানা প্রাচীর উঁচু করা (উভয় পাশে নতুন প্লাস্টারসহ), লোহার গ্রিলের ওপর বৃত্তাকার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, ডিসটেম্পারিং এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ২২ লাখ টাকার কাজ, ঢাকা-র তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিজি প্রেস-এর কনফিডেন্সিয়াল শাখার ছাদ সংস্কার ও মেরামত ৭০ লাখ টাকার কাজ, ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি মুদ্রণালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বাইরের অংশের সংস্কার ৮ লাখ টাকার কাজ, ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিজি প্রেসের বাইন্ডিং বিভাগের ছাদ সংস্কার ও মেরামত ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার কাজ, ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিজি প্রেসের পশ্চিম সীমানা প্রাচীর সংস্কার ও মেরামত ১৮ লাখ টাকার কাজ, বিজি প্রেস তেজগাঁও-এর স্টাফ কোয়ার্টারের পশ্চিম দিকের প্রধান ফটক নির্মাণ (এসএস কর্তৃক) ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার কাজ রয়েছে।

মইনুলের আহবানকৃত দরপত্র বিজ্ঞপ্তিগুলোতে দেখা যায় এই বরাদ্দের ৪টি কাজ গত মে মাস ও ২টি কাজ গত ২৪ জুন সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, জুন ক্লোজিং হয়ে যাওয়ার পরেও কাজগুলো এখনো সম্পন্ন হয়নি। নিয়মানুযায়ী গত ২০২৫-২৬ এর জুন ক্লোজিং এর আগেই এই বরাদ্দের কাজ শেষ করে বিল পরিশোধ করার কথা। যদি এই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পাদন করে বিল পরিশোধ না করলে বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত যাবে। কিন্তু কাজ সম্পন্ন না করেই গত জুন ক্লোজিং এ মইনুল ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে এই কাজগুলো সম্পন্ন দেখিয়ে বিল দিয়ে দিয়েছেন।

পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) এবং সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হওয়া ব্যতীত এবং পরিমাপ বইতে (MB) রেকর্ড ছাড়া সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করার ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদার উভয়ের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত, আর্থিক জরিমানা, এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এছাড়াও মো. মইনুল ইসলাম গণপুর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের আদেশ অমান্য করে এই ৬টি এপিপি বরাদ্দের দরপত্রে এলটিএম পদ্ধতিতে না করে ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করেছেন। কোনো প্রকোশলী যাতে কমিশনের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে এপিপি বরাদ্দের দরপত্রের কাজ দিতে না পারে সেজন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দপ্তর থেকে সকল দরপত্র এলটিএম পদ্ধতিতে অহবান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..