শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোগল সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক স্মারক বিবিচিনি শাহী মসজিদ দৈনিক বাংলা মোড়ে গোলাগুলি, আহত ২ উখিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত, ঘরে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে সড়ক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেলেন ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: বিএসটিআই ইউএই-তে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিল: তথ্য চেয়ে দুতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে ৩ জন ডাকাত গ্রেফতার, সিএনজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নূরের চোখে আলো ফেরাতে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদার মানবিক সহায়তা বনগ্রামে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

মোগল সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক স্মারক বিবিচিনি শাহী মসজিদ

মো : আরিফুর রহমান, (বেতাগী) বরগুনা :
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সর্বদক্ষিণের উপকূলীয় জেলা বরগুনা। নদী – সাগর বেষ্টিত ঐতিহ্যবাহী এ জনপদে রয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের পুরনো বিবিচিনি শাহী মসজিদ। মসজিদটির স্থাপত্য রীতি ও নির্মান শৈলীতে রয়েছে মোগল সাম্রাজ্যের আভিজাত্যের ছাপ। বরগুনার বেতাগী উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিবিচিনি ইউনিয়নে এই মসজিদ অবস্থিত। দিগন্তজুড়ে সবুজের বর্ণিল আতিথেয়তায় উদ্ভাসিত ভিন্ন এক ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যে উঁচু টিলার ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এবং মোগল সাম্রাজ্যের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে ১৯৯২ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্ব নেয় এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

কথিত আছে, এই মসজিদ ঘিরেই উপকূলীয় বাংলায় শুরু হয় ইসলামের প্রচার। কয়েকশ বছরের পুরনো এই স্থাপনা আকারে বড় না হলেও শৈলীতে বেশ রাজসিক। এই মসজিদ ঘিরে রয়েছে অনেক অলৌকিক গল্প।

স্থানীয়রা জানান, বছরজুড়ে ঐতিহাসিক বিবিচিনি মসজিদটি দেখতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো এই মসজিদের স্থাপত্যশৈলী রাজসিক হওয়ায় তা দেখে মুগ্ধ হন সবাই। মসজিদটি প্রায় ৪০ ফুট সুউচ্চ টিলার ওপর অবস্থিত। বর্গাকার এ স্থাপনার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৪০ ফুট করে। দেয়ালগুলো ছয় ফুট চওড়া। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে খিলানাকৃতির প্রবেশপথ। ইটগুলো ধূসর বর্ণের। দর্শনার্থী ও নামাজিদের ওঠানামার জন্য এর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে রয়েছে সিঁড়ি।

ইতিহাস ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সম্রাট শাহজাহানের আমলে শাহ নেয়ামতুল্লাহ নামের এক সাধক পারস্য থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে দিল্লি আসেন। ওই সময় শাহজাহানের দ্বিতীয় ছেলে বাংলার সুবাদার শাহ সুজা তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১৬৫৯ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে ইসলাম প্রচারের জন্য শাহ নেয়ামতুল্লাহ তার শিষ্যসহ বজরায় চড়ে গঙ্গা অতিক্রম করে বিষখালী নদীতে নোঙর করেন। তখন শাহ সুজার অনুরোধে গ্রামে এক গম্বুজবিশিষ্ট একটি মসজিদ তৈরি করা হয়। পরে নেয়ামতুল্লাহর কন্যা চিনিবিবি ও ইছাবিবির নাম মিলিয়ে গ্রামের নাম রাখা হয় বিবিচিনি। মসজিদটির নামও সেখান থেকে নেওয়া।

আরও জানা যায়, ওই সময় বিষখালী নদীর পানি ছিল লবণাক্ত। ফলে সুপেয় পানির ছিল বড় অভাব। এতে এলাকার মানুষের কষ্ট হতো। শাহ নেয়ামতুল্লাহ এটি অনুভব করেন এবং তার তসবিহটি বিষখালী নদীতে ধুয়ে দেন। অলৌকিকভাবে এতে এখানকার পানি সুপেয় হয়ে যায়। আজও সেই পানি তেমনই রয়েছে। তাছাড়াও সে সময় সুন্দরবন সংলগ্ন বিষখালীতে ভয়ংকর কুমিরের আনাগোনা ছিল। কিন্তু শাহ নেয়ামতুল্লাহ আসার পর থেকে নাকি বিবিচিনির ধারেকাছেও কোনো কুমির আসত না। এসব নানা গল্প এখনও স্থানীয়দের মুখে মুখে।

মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন প্রান্তের অগণিত দর্শনার্থী এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। টাকা-পয়সাও দান করেন। জুমার নামাজেও অনেক মুসল্লি আসেন। বর্তমানে এর একটি সিঁড়ি ভেঙে গেছে। দ্রুত তা নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিবিচিনি মসজিদ জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এটি অন্যরকম অনুভূতির এক জায়গা।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..