নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিক্রমপুর স্টিল মিলস লিমিটেড কারখানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শনে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কালো ধোঁয়ার অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটির চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া নির্গমনের অভিযোগের পর মঙ্গলবার কারখানাটি পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এএইচ এম রাশেদ, পরিচালক মোবারক হোসেন ও সহকারী পরিচালক রাসেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রূপগঞ্জের মৈকুলী এলাকার বিক্রমপুর স্টিল মিলস লিমিটেড পরিদর্শন করেন। এ সময় কারখানার ভাট্টি, চিমনি ও ধোঁয়া নির্গমনের বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তারা।
পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা জানান, কারখানাটি থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া নির্গমনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের করা বায়ুদূষণের অভিযোগের সত্যতা নতুন করে সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার চিমনি দিয়ে নির্গত কালো ধোঁয়া আশপাশের জনবসতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বায়ুদূষণের পাশাপাশি গাছপালা ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতির কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এর আগে কালো ধোঁয়া নির্গমনের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক অভিযানে কারখানাটিকে জরিমানা করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১২ মে বায়ুদূষণের অপরাধে বিক্রমপুর স্টিল মিলস লিমিটেডকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতেও একই অভিযোগে আরও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু এসব জরিমানার পরও কালো ধোঁয়া নির্গমন বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কারখানাটির পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, কারখানাটিতে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাতে লোহা গলানোর ভাট্টিতে বিস্ফোরণে আলম হোসেন ও বরকত নামে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলম হোসেন মারা যান। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ভাট্টি বিস্ফোরণে বেল্লাল, রোমান ও রাব্বানী নামে আরও তিন শ্রমিক দগ্ধ হন।
একই কারখানায় একাধিক দুর্ঘটনা ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগের পর এবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শনে ক্ষতিকর কালো ধোঁয়ার অস্তিত্ব পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলো।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এএইচ এম রাশেদ জানান, বিক্রমপুর স্টিল মিলস লিমিটেডের কালো ধোঁয়া ও অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরিবেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরিমানা করেই যেন বিষয়টি শেষ না করা হয়। কারখানার ধোঁয়া নির্গমন স্থায়ীভাবে বন্ধ, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করতে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
শিল্পায়নের নামে যেন মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে না পড়ে—এ জন্য বিক্রমপুর স্টিল মিলের পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের