সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জনগণের প্রতি বিভ্রান্তকারীদের নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অনিয়মকেই ‘নিয়ম’ বানিয়েছেন ভোলার তহশিলদার মুসফিক আগস্টে আরও ৫ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার ইনতেফা কোম্পানি উদ্যোগে কৃষকের মাঝে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয় পায়রা নদীতে নিখোঁজ জুঁইয়ের মরদেহ মিলল তালতলীতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় সালেহ মোঃ আদনান বেতাগীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আপন ভাইকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ২ মোরেলগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মাদকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান আমতলীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি, পোনা অবমুক্ত ও মৎস্য পদক প্রদান সান্তাহারে অব্যবস্থাপনায় আবাসিক হোটেলের জরিমানা

অনিয়মকেই ‘নিয়ম’ বানিয়েছেন ভোলার তহশিলদার মুসফিক

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত

ভোলায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুসফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নেয়া, মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে জাল- জালিয়াতির মাধ্যমে ভিপি জমির নামজারি করা ও অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মুসফিকের এ বন্দোবস্ত গ্রহীতাদের তালিকায় রয়েছেন তার শিক্ষক পিতা, নিজের ছেলে, ভগ্নিপতিসহ নিকটাত্মীয়রা। খাস জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের আইন না থাকলেও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রিও করেছেন তিনি।

মুসফিকের জালিয়াতির ফাঁদে পড়ে বিপকে পড়েছেন অনেকে। এছাড়া যখন যেখানে চাকরি করেছেন সেখানেই নিজের পরিবারের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পত্তির পাহাড় গড়েছেন মুসফিক। অবৈধভাবে নেয়া এসব জমি দখলে রাখতে করেছেন রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার। এসব অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার চর কচ্চপিয়া মৌজার দিয়ারা ৩৯৪ খতিয়ানের জমির মালিক স্থানীয় কৃষক মো. সিরাজ। চর মানিকা ইউনিয়নের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মুসফিকুর রহমান ওরফে মুশফিক তহশিলদার নীতিমালা অমান্য করে  ২০০৪ সালে একই খতিয়ানে  তার ছেলে মাহফুজুর রহমানের নামে দেড় একর খাস জমি বন্দোবস্ত নেন। পাঁচ বছরের ছেলে মাহফুজকে বিবাহিত দেখিয়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মুশফিকের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০১৮ সালে জমির প্রকৃত মালিক মো. সিরাজকে উচ্ছেদ করে ওই জমিতে গড়ে তোলেন ২টি আধা পাকা ঘর। পাশ্ববর্তী মোজাম্মলে ও হানিফ বয়াতির পরিবারের কাছে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করেন একই খতিয়ানের ৪৪ শতাংশ জমি। জমি বন্দোবস্ত নেয়া ও বিক্রি সবই ছিল অবৈধ।
মো. সিরাজের অভিযোগ,  চর মানিকা ইউনিয়নের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মুসফিকুর রহমান জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ২০০৪ সালে একই খতিয়ানে তার ছেলে মাহফুজুর রহমানের নামে দেড় একর খাস জমি বন্দোবস্ত নেন। পাঁচ বছরের ছেলে মাহফুজকে বিবাহিত দেখান। মুসফিক নিজেকে আওয়ামী লীগের সাবেক এক এমপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় ‘গুন্ডা বাহিনী’ গড়ে তুলেছেন। ওই বাহিনীকে দিয়ে ২০১৮ সালে সিরাজকে তার জমি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে দুটি আধা পাঁকা ঘর নির্মাণ করেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ওইঘর ২টি দখলে নিয়েছেন। সিরাজের ভাষ্য, ওই এলাকার অসংখ্য মানুষকে তিনি অত্যাচার নির্যাতন করেছেন। বেআইনিভাবে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছেন। সিরাজের প্রতিবেশী মোজাম্মেল, সুফিয়া বেগম ও হানিফ বয়াতির পরিবার কেনা জমির দখল নিতে গিয়ে প্রতিবেশিদের সঙ্গে মামলা জড়িয়েছেন। এখন পর্যন্ত পাননি জমির দলিল।

হানিফ বয়াতির অভিযোগ, মুসফিক তার লোকজন দিয়ে জিম্মি করে ফাঁদে ফেলে ২ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করেছেন। কেনা জমির দলিল না পাওয়ায় খাজনা দিতে পারছেন না। নিজেদের নামে নামজারিও করাতে পারেন নি।

চার দশক আগে চর কচ্চপিয়ায় অর্ধশতাধিক দুস্থ পরিবারে বসবাসের জন্য জমি কিনে আশ্রয়ণ প্রকল্প করে দেয় বাংলাদেশ চার্চ সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। ৫৪টি অসহায় পরিবারকে ওই জমিতে পূর্ণবাসন করা হয়। ওই সংস্থার জমির মধ্যে ছেলের নামে নেয়া বন্দোবস্তের জমি দাবি করে আশ্রিতদের উচ্ছেদে স্থানীয় প্রভাশালীদের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন। 

বাংলাদেশ চার্চ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কচ্চপিয়া আশ্রয় কেন্দ্রের পরিচালক মো. সায়েদ ফরাজি জানান, ১৯৮৩ সালে চার্চ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা জমি কিনে স্থানীয় অসহায় ৫৪ পরিবারকে পূনবাসন করে। প্রায় চার দশক পর এসে মুসফিকের লোকজন চার্চের আশ্রয়নের মধ্যে জমি দাবি করছেন। দেয়া হচ্ছে মামলা ও উচ্ছেদের হুমকি- ধামকি। এতে আতংকে আছেন দরিদ্র–অসহায় পরিবারগুলো।

সরেজমিনে জানা যায় ২০০৪ সালে মুসফিকুর রহমান চরফ্যাসন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (সহকারী তহশিলদার) পদে কর্মরত ছিলেন। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার গুরু দায়িত্ব তার। আর এ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রক্ষকের দায়িত্বে থাকা মুসফিক বনে যান ভক্ষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে চর কচ্ছপিয়া ও দক্ষিণ আইচা মৌজায় দেড় একর করে ২০টি খাস জমি বন্দোবস্ত নেন। যার মধ্যে রয়েছে মুসফিকের স্কুল শিক্ষক পিতা, ছেলে, ভগ্নিপতি, নিজের ও নিকটাত্মীয়দের নাম।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও সাতটি বন্দোবস্ত মোকদদ্দমার কাগজপত্র পর্যালোচনা দেখা যায়, মুসফিকুর রহমান ৭৪৪এফ/৯৯-২০০০ মোকদ্দমায় দক্ষিণ আইচা মৌজার এসএস ৭১৭ ও ২১৭০ এফ/২০০৩-২০০৪ বন্দোবস্ত মোকদ্দমায় চর কচ্ছপিয়া মৌজার দিয়ারা ৩৯৮ খতিয়ানের মোট ৩ একর জমি নিজের নামে বন্দোবস্ত নেন। ৩৯৮ নং খতিয়ানের বন্দোবস্ত আবেদনে নিজের পুরো নাম এড়িয়ে কৌশলে ডাকনাম মোশারেফ ব্যবহার করেন। তার শিক্ষক পিতা মফিজুর রহমানকে ভূমিহীন দেখিয়ে চর কচ্ছপিয়া মৌজার দিয়ারা ৩৯৭ নং ও দক্ষিণ চর আইচা মৌজার এসএ ৭১৬ খতিয়ানের তিন একর জমি বন্দোবস্ত নেন। যার বন্দোবস্ত কেস নং ২১৬৯এফ/২০০৩-২০০৪ ও ৭৪৩ এফ/৯৯-২০০০। তার পাঁচ বছরের ছেলে মাহফুজর রহমান ওরফে রিমনকে বিবাহিত দেখিয়ে বন্দোবস্ত ২১৬৬ এফ/২০০৩-২০০৪ ও ২১৬৭ এফ/ ২০০৩-২০০৪ মোকদ্দমায় চর কচ্চপিয়া মৌজার দিয়ারা খতিয়ান নং ৩৯৪ ও ৩৯৫ মোট ৩ একর খাস জমি বন্দোবস্ত নেন। একই মৌজার দিয়ারা ৩৯৩ খতিয়ানের দেড় একর জমি ভগ্নিপতি আবুল কাশেমের নামে ২১৬৫ এফ/২০০৩-২০০৪ মোকদ্দমামুলে বন্দোবস্ত নেন। যাদের নামে সরকারি নয় একর খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তারা কেউই নীতিমালা অনুযায়ী খাস জমি পাওয়ার অধিকার রাখেন না।

সরেজমিনে জানা যায়, মুসফিকের বাবা ছিলেন দৌলতখান উপজেলার জয়নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এলাকায় তার বেশ সুনাম ও পরিচিত আছে। একাধিক বাড়িসহ সহায়–সম্পত্তি ছিল তার। কিন্তু সেই শিক্ষক বাবাকে নদীভাঙ্গা ভূমিহীন দেখিয়ে খাসজমি বন্দোবস্ত নেন। তার বড় ছেলে মাহফুজুর রহমান রিমন বতমানে ২৫/২৬ বছরের যুবক। ঢাকার একটি কলেজে পড়ছেন। কিন্তু ২০০৪ সালে তাকে বিবাহিত, এক সন্তানের পিতা ও ২৫ বছর বয়স দেখিয়ে জমি বন্দোবস্ত নেয়া হয়। খাস জমির ২টি আবেদনে রিমনের স্ত্রীর নাম দেখানো হয়েছে হাফসা বেগম ও ফাতেমা বেগম। ওই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। ভগ্নিপতি  আবুল কাশেমের নামে দুই দশক আগে খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে বিক্রি করলেও এখনও এর কিছুই জানেন না তিনি। বাবা মফিজুর রহমান মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায় নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্তকৃত খাস জমি হস্তান্তর, বিক্রি, লগ্নি বা বর্গা দেয়া নিষেধ থাকলেও এসব কিছুই মানেননি মুসফিক তহশিলদার। নিবন্ধন আইনে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত জমি বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিশেষ পন্থায় স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এসব জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। 

লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ গ্রামের প্রবাসি মো. রফিকুল ইসলাম  জানান, তার আত্মীয় মো. সেলিমের মাধ্যমে দশ বছর আগে মুসফিক তহশিলদারের কাছ থেকে দেড় একর জমি কিনেন। পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে চর কচ্ছপিয়া মৌজার ৩৯৫ নং খতিয়ানের জমি তাকে বুঝিয়ে দেন। বন্দোবস্ত সূত্রে ওই জমির মালিক মুসফিকের ছেলে রিমন। খাস জমি হওয়ায় তখন দলিল করতে পারেননি। তাই স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছেন। কথা ছিল ১০/১২ বছর পর দলিল করে দিবেন। কিন্তু এখনও দলিল দেন নি। একই মৌজার ৩৯৩, ৩৯৭ ও ৩৯৮ খতিয়ানের সাড়ে ৪ একর জমি বিক্রী করেছেন জিয়া আকন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। জিয়া আকন মুসফিকের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৩টি খতিয়ানের জমি কেনার কথা স্বীকার করেছেন।

২০২৪ সালে চরফ্যাসন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন মুসফিক। এখানে সরকারি ভিপি জমি তার লোভের নজর এড়ায়নি।  ‘ক’ তফসিলভুক্ত ভিপি (অর্পিত) জমি মৃত ব্যক্তিসহ নিজের লোকজনের নামে নামজারী করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি জাল কাগজপত্র দিয়ে ৮টি নামজারি মোকদ্দমায় প্রায় ২৭ একর জমির ভুয়া নামজারি করান। এর মধ্যে নামজারি মামলা নং ১৭৩১/২৪-২৫ এর মাধ্যমে চর নিলকমল মৌজার ১/১ খতিয়ানের ১১ একর ১০ শতাংশ ৮ জন ব্যক্তির নামে নামজারী করান। অনলাইনে দাখিল করা আবেদন ও উপজেলা ভূমি অফিসের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৮ জন আবেকনকারীর মধ্যে ৪  জনই মৃত। নিলকমল মৌজার জমির আবেদনের সাথে জিন্নাগর মৌজার খতিয়ান সংযুক্ত করা। জমির মালিকানা দাবির স্বপক্ষে আর কোন দলিল পত্র ও আবেদনকারীদের এনআইডি কপি সংযুক্ত  ছিল না। অথচ মুসফিক ওই নামজারির প্রস্তাব করেন এবং চরফ্যাসন উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার (বর্তমানে কানুন গো হিসাবে কর্মরত) কবির হোসেন  সুপারিশ করেন। যা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ অনুমোদন করে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর  ডিসিআর দেন। একই অনিয়ম হয়েছে অন্য নামজারীগুলোতেও। অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুসফিকের এ জাল- জালিয়াতির বিষয় জানার পর সহকারী কমিশনার নিলকমল মৌজার ৮টি নামজারীই বাতিল করেছেন। ১১ একর ভিপি জমি নামজারির বিষয়ে কথা হয় আবেদনকারী তোফায়েল আহমেদ ও তার ভাতিজা হুমায়ুন কবিরের সাথে। 

তাদের ভাষ্য, মুসফিকের নির্ধারিত দালাল আবু সাইদের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ওই  জমি নামজারি করিয়েছেন। তারা ভিপি জমি নিজেদের দলিলপত্র আছে দাবি করলেও তা দেখাতে পারেন নি। তবে খাজনা দিতে গিয়ে দেখেন নামজারি বাতিল হওয়ার বিষয় জানতে পারেন। কিন্তু নামজারি বাতিলের বিষয় কোন আইনী ব্যবস্থা না নেয়ায় জাল-জালিয়াতির বিষয়টি আরও স্পস্ট হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ওইসব জমির দখলদারের সাথে ভাগভাটোয়ার চুক্তিতে মুসফিক নামজারি করান।

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে খাস জমি বন্দোবস্ত নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন মুসফিকুর রহমান। বন্দোবস্তের আবেদন ও খতিয়ানের কপি দেখালে এসব ব্যক্তিদের তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে পূর্বশত্রুতাকে দায়ী করেন তিনি। 

এ বিষয়ে চরফ্যাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন জানান, ভিপি জমি নামজারির বিষয়টি জানার পর তার পূর্ববর্তী কর্মকর্তা বাতিল করেছেন। তবে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সে বিষয়ে কোন উত্তর দেননি। আর মুসফিক তহশিলদার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে খাস জমি বন্দোবস্তের বিষয়ে বলেন, এমন বিষয় তাদের জানা নেই। যদি বেআইনি বন্দোবস্ত হয়ে থাকে তা বাতিলের সুযোগ রয়েছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, মুসফিকের অভিযোগের কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। অভিযোগ সঠিক পাওয়া গেলে তাহলে গুরুতর অন্যায়। সকারি কর্মকর্তা নিজে বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে খাস জমি নিয়ে থাকলে নীতিমালা অমান্য করা হবে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক।

বন্দোবস্তের কবুলিয়াত ফরমের ১১ ও ১৩ নং শর্তে জমি বর্গা দেয়া, বিক্রয়, দান বা হস্তান্তর করা যাবেনা মর্মে শর্ত দেয়া আছে। আর খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা ১৯৯৭-এর অুনচ্ছেদ ৭.০ অনুযায়ী উত্তারাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য কোনোভাবে বন্দোবস্তকৃত জমি হস্তান্তর নিষেধ। এই নিয়ম লঙ্গন করলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে জমি পুনরায় সরকারের খাস খতিয়ানে চলে যায়।’ কিন্তু মুসফিকের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর করা হয়নি।

বর্তমানে ভোলা পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত মুসফিকুর রহমান ২০০৪ সালে চরফ্যাসনের চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরিকালীন জমি বন্দোবস্ত নেন এবং ২০২৪ সালে নুরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি কালিন জালিয়াতির মাধ্যমে ভিপি জমি নামজারি করান।
(ST)

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..