স্বাবলম্বী পরিবার করার প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরগুনার বেতাগীতে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তুলে ধরতে অবহিতকরণ সভা ও প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেতাগী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জলিলুর রহমান খান নান্না, উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. নুরুল ইসলাম পান্না এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান খান নান্নাসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা ফ্যামিলি কার্ডে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য পরিবারপ্রধানদের শনাক্ত করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা। সরকারের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করার কথা বলেন।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৮৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ, স্বচ্ছ উপকারভোগী নির্বাচন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।