বরগুনার তালতলী উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারীদের গুদামঘর যাচাই-বাছাই না করে সুপারিশ এবং পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে গুদাম ভাড়ার চুক্তিনামায় জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় নিয়োগ বাতিল ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক এবং জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিন আবেদনকারী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য গত ১৩ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক। বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে সাতটি ইউনিয়নে মোট ৭০ জন আবেদন করেন।
সার ডিলার নিয়োগ যাচাই কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল আলম মামুনের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু জাফর তাঁর মতামত না নিয়েই নিজেদের মতো করে তালিকা জেলায় পাঠিয়েছেন। এমনকি আবেদনকারীদের গুদামঘর যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই সুপারিশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুদামঘর ভাড়ার চুক্তিনামায় জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলেছেন ওই ইউনিয়নে ডিলারশিপের আবেদনকারী মিথিলা এন্টারপ্রাইজের মালিক মিলন, মৃধা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা ও আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক ইব্রাহিম।
অভিযোগকারীদের দাবি, গুদামঘরের মালিক স্বপন চন্দ্র শীলের স্বাক্ষর জাল করে চুক্তিনামা তৈরি করে সার ডিলার নিয়োগের আবেদন করেন রকিবুল ইসলাম। এ ঘটনায় তাঁরা নিয়োগ বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গুদামঘরের মালিক স্বপন চন্দ্র শীল বলেন, “আমি রকিবুল ইসলাম নামের কারও সঙ্গে সার সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য ঘর ভাড়ার চুক্তি করিনি। আমার স্বাক্ষর জাল করে চুক্তিনামা তৈরি করা হয়েছে। যিনি এমন কাজ করেছেন, তাঁর শাস্তি দাবি করছি।”
অভিযোগকারী মিলন, মাসুদ রানা ও ইব্রাহিম বলেন, “পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে রকিবুল ইসলাম জালিয়াতির মাধ্যমে সার গুদামের চুক্তিনামা তৈরি করে আবেদন করেছেন। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি চক্র তাঁকে সার ডিলার নিয়োগ দিয়েছে বলে আমাদের অভিযোগ। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমি সঠিকভাবে আবেদন করে সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছি।”
সার ডিলার বাছাই কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা আমার মতামত না নিয়েই তাঁদের ইচ্ছামতো তালিকা জেলায় পাঠিয়েছেন। কাদের নাম পাঠানো হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলার বাছাই কমিটির সদস্যসচিব মো. আবু জাফর বলেন, “যাঁরা ডিলারশিপ পেতে আবেদন করেছেন, তাঁদের সবার তালিকা জেলায় পাঠিয়েছি। এরপর তাঁরা কী করেছেন, তা আমার জানা নেই।” সিকদার এন্টারপ্রাইজের গুদামঘরের চুক্তিনামা সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে জানান।
অন্যদিকে, তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার ডিলার বাছাই কমিটির সভাপতি অতীশ সরকার বলেন, “উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তাঁর টিম সার ডিলারের আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করেছেন। তাঁর মতামতের ভিত্তিতেই তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে।”
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম মো. বদরুল আলম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।