বরগুনার আমতলীতে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং জেলেদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমতলী উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে গুলিশাখালী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৫০ জেলের জন্য ৪৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ করা চালের একটি অংশ জেলেদের মধ্যে সঠিকভাবে বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম। চাল ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণের কথা থাকলেও তিনি তা না করে আমতলী উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বিতরণ করেন। এ ছাড়া জেলেদের কাছ থেকে পরিবহন ভাড়া বাবদ জনপ্রতি ৩০ টাকা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ করেন জেলে রাকিব ও সোহাগ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার গুলিশাখালী ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের সাত শতাধিক জেলের জন্য ১৮ মেট্রিক টন চাল খাদ্যগুদাম থেকে ছাড় করিয়ে নেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, ওই চাল বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে।
এরপর গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ছয় শতাধিক জেলেকে চাল বিতরণের জন্য আমতলী উপজেলা খাদ্যগুদামে ডেকে নেওয়া হয়। জেলেরা সেখানে উপস্থিত হলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা অল্পসংখ্যক জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করেন। তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে কয়েক শ জেলেকে চাল না দিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ডালাচারা গ্রামের জেলে জাকির হাওলাদার ও মোকলেস চৌকিদার।
জেলেদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা খাদ্যগুদাম থেকে কাগজে-কলমে ১০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করিয়ে নিলেও তা তাঁদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। বিতরণ তালিকায় থাকা স্বাক্ষর ও টিপসই যাচাই করলে চাল আত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
ডালাচারা গ্রামের জেলে জাকির হাওলাদার ও মোকলেস চৌকিদার বলেন, ইউনিয়নের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক নিবন্ধিত জেলেকে তালিকায় নাম নেই বলে চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
খেকুয়ানী গ্রামের জেলে মোস্তফা হাওলাদার বলেন, তাঁর জেলে নিবন্ধন কার্ড থাকা সত্ত্বেও তালিকায় নাম নেই, এমন অজুহাতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাঁকে চাল দেননি।
অন্যদিকে, আমতলী উপজেলা খাদ্যগুদামে চাল বিতরণের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৬ মেট্রিক টন চাল ছাড় করিয়ে নিয়েছেন। বাকি চাল তিনি নেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম বলেন, টাকা নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ধরনের কোনো অনিয়মও হয়নি। সব জেলের মধ্যে সঠিকভাবে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী ও গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।