সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সান্তাহার থেকে গাবতলীর তিন এলএসডিতে গেল শুধু কাগজ, অর্ধকোটি টাকার সরকারি চাল ব্যবসায়ীর গুদামে “দক্ষ যুব গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে নান্দাইলে জাতীয় যুব দিবস পালিত আমতলীতে জেলেদের মানবিক সহায়তার চাল আত্মসাতের অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধার মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, বীর নিবাসের কাজ বন্ধ—আমরণ অনশনে ৮০ বছরের আজহার মোরেলগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত, ৬ যুবক পেলেন ৮ লাখ টাকার ঋণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হলেন তুহিন রেজা তাহসিফ হত্যা: ‘জুনিয়র বন্ধু’ ৪ দিনের রিমান্ডে তাড়াইলে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ঝিটকা খাজা রহমত আলী কলেজে ফল বিপর্যয়, ফেল ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী আমতলীতে আগুনে পুড়ল দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষতি ২৫ লাখ টাকা

সান্তাহার থেকে গাবতলীর তিন এলএসডিতে গেল শুধু কাগজ, অর্ধকোটি টাকার সরকারি চাল ব্যবসায়ীর গুদামে

মো:মাইন, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : 
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৫৭৫২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার এলএসডি (খাদ্যগুদাম) থেকে গাবতলী উপজেলার তিনটি এলএসডিতে সরকারি চাল পরিবহনের নামে শুধু কাগজপত্র পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে চাল সরবরাহ না করেই কাগজে-কলমে প্রেরণ ও গ্রহণ দেখিয়ে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের ১১৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টন সরকারি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের তীর গাবতলীর তিনটি এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সান্তাহার এলএসডির কর্মকর্তা এবং পুরোনো চালের ব্যবসায়ীদের একটি চক্রের দিকে। ওই চাল পরে সান্তাহারের চালকল মালিক মতিউর রহমান স্বপনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ চলাচলসূচি নম্বর-১৭, তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আমন মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার এলএসডি থেকে গাবতলী উপজেলার তিনটি এলএসডিতে মোট ৬৪৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন আমন চাল পাঠানোর জন্য আইআরটিসি (অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিবহনসূচি) গ্রহণ করা হয়।

সূচি অনুযায়ী, গাবতলী সদর এলএসডিতে ১৯৮ মেট্রিক টন, সাবেকপাড়া এলএসডিতে ১৯৮ মেট্রিক টন এবং সুখানপুকুর এলএসডিতে ২৪৭ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল পাঠানোর কথা ছিল। চাল প্রেরণ ও গ্রহণের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০ সেপ্টেম্বর।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সান্তাহার এলএসডি থেকে সাতটি ভি-ইনভয়েসের মাধ্যমে ১১৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল পরিবহনের কাগজপত্র তৈরি করা হয়। কিন্তু বাস্তবে চাল পাঠানো না হলেও কাগজে-কলমে সংশ্লিষ্ট তিনটি এলএসডিতে চাল প্রেরণ ও গ্রহণ দেখানো হয়। পরে ওই চাল গাবতলীর সরকারি খাদ্য কর্মসূচির চালের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর মোস্তাক আহমেদ সান্তাহার এলএসডিতে আসেন। এ সময় সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তাঁর সহকারীর মাধ্যমে ১১৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল সংশ্লিষ্ট তিনটি এলএসডিতে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে—এমন কাগজপত্র তৈরি করা হয়। পরে চালের পরিবর্তে সাতটি ভি-ইনভয়েস মোস্তাক আহমেদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি সেগুলো সংশ্লিষ্ট তিনটি এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি এলএসডির কর্মকর্তারা আগেই মোস্তাক আহমেদের কাছে ওই চাল বিক্রি করে রাখেন। ফলে সান্তাহার থেকে চাল গ্রহণের পরিবর্তে শুধু ভি-ইনভয়েসের কাগজপত্র গ্রহণ করেই সরকারি নথিতে চাল বুঝে নেওয়ার বিষয়টি দেখানো হয়। অথচ চালগুলো সান্তাহার এলএসডির ৯ নম্বর গুদামেই থেকে যায়।

ঘটনার তিন দিন পর, ২৩ সেপ্টেম্বর সান্তাহারের চালকল মালিক মতিউর রহমান স্বপনের ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট ১৪-৯৩২৮, ১৮-৪৯৩৯, ১৪-৫৮৯৪ ও ১৬-৫৫২৩ নম্বরের ট্রাকে করে সান্তাহার এলএসডির ৯ নম্বর গুদাম থেকে চালগুলো তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, চাল পরিবহনের জন্য তৈরি করা সাতটি ভি-ইনভয়েসের মধ্যে ৪১৭২৭২৮ ও ৪১৭২৭৪০ নম্বরসহ অন্যান্য ইনভয়েসে উল্লেখ করা ট্রাক নম্বরগুলোর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে ঢাকা মেট্রো-১৪-৭৭৯৩ নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট সাতটি ট্রাক সান্তাহার এলএসডিতে প্রবেশ করেনি। এসব ট্রাক নম্বর পরিবহন ঠিকাদার এর আগে অন্য একটি চলাচলসূচির কাজে ব্যবহার করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া, ১১৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল মতিউর রহমান স্বপনের কাছে সরবরাহের সময় সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মিয়া প্রতি কেজিতে আড়াই টাকা হিসাবে প্রায় তিন লাখ টাকা এবং সহকারী খাদ্য পরিদর্শক রাজু আহমেদ ট্রাকপ্রতি ১০ হাজার টাকা হিসাবে মোট ৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় অপেক্ষাকৃত ভালো মানের আমনের স্বর্ণা-৫ ও স্বর্ণা গুটি চাল বেছে সরবরাহ করা হয়।

এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা সদর, সুখানপুকুর ও সাবেকপাড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাক্রমে আব্দুল আলিম, দেবায়ন বাগচি ও শাকিল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগের তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। চলাচলসূচি অনুযায়ী সব চাল বুঝে নেওয়া হয়েছে এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সেগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে, সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মিয়ার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সদ্য সমাপ্ত বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে সান্তাহারের চালকল মালিক মতিউর রহমান স্বপনের কাছ থেকে প্রতি কেজিতে আড়াই টাকা হিসাবে মোট সোয়া ছয় লাখ টাকা নিয়ে ২৫০ মেট্রিক টন আমন চাল বের করে দিয়ে এর পরিবর্তে বোরো চাল গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় সান্তাহার এলএসডির উপপরিদর্শক রাজু আহমেদ ২৫০ মেট্রিক টন চাল, অর্থাৎ অতিরিক্ত লোডিং করে ৭ গাড়ির মাল ৪ ট্রাক চাল বদল করে দেওয়া-নেওয়ার জন্য স্বপনের কাছ থেকে ট্রাকপ্রতি ১০ হাজার টাকা হিসাবে সমন্বয় করা ৪ গাড়ি থেকে মোট ৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন উক্ত অভিযোগের সাথে আমাদের কার্যক্রমের কোন মিল নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..