শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
তাড়াইলের গজেন্দ্রপুর দালানবাড়ি মাদরাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্ত কমিটি আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল হাসানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ যশোরের বসুন্দিয়া ভূমি কর্মকর্তা পলাশের ‘হাদিয়া’র নামে ওপেন সিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য: মাদ্রাসার জমি নামজারিতেও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ! ধানমন্ডিতে ১২ বছরের গৃহকর্মী শিশু রিক্তার মৃত্যু: অভিযুক্ত পাউবো প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দম্পতির ১৫ দিনে জামিন, নেপথ্যে টাকা নাকি চাপ? এলজিইডি নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানউজ্জামান দুলালের শত কোটি টাকার অনিয়ম ১৫বছরের চাকরি জীবনে ৯০ লাখ টাকা বেতন পেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ দুর্নীতির অভিযোগে দক্ষিণ সিটির আনিস, বোরহান চসিকের শাহীন, ফারজানা মুক্তা ৪ প্রকৌশলীর দেশ ত্যাগ ঠেকাতে নির্দেশ সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের নায়েব ঘুষের ‘মহারাণী’ শর্মিষ্ঠা সরকারের মাসিক হাত খরচ লাখ টাকা মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির বিশ্বস্ত হাতিয়ার উমেদার ‘আওলাদ সিন্ডিকেট’ জিম্মি সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার কাজিয়া সুলতানা দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

অনলাইন ডেস্ক:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৮৬৬ বার পঠিত

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয় ৯ অক্টোবর।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়, ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ হাজার কোটি টাকা লেনদেন, এলসির মাধ্যমে জাহাজ ভাঙার নামে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা পড়ে। গত ৩০ জুন ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি ইবিএলের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবার ‘অস্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন’ ও ‘হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার’ করেছেন— এমন অভিযোগ তুলে তা দ্রুত অনুসন্ধানে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেন আইনজীবী কামরুল ইসলাম।

দুদক চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে আইনজীবী কামরুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্ত শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আট হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ লেনদেনের তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ। শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন, কন্যা জারা নামরীন ও ছেলে জারান আলীর নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৮৭টি হিসাব রয়েছে। এছাড়া তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ১৪৬টি হিসাব রয়েছে। চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত এসব হিসাবের লেনদেনের পরিমাণ ৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকারও বেশি।

অভিযোগে বলা হয়, শুধু শওকত আলী চৌধুরীর ঢাকা ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় খোলা হিসাবেই জমা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। তদন্তে উঠে এসেছে, এসব লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া শওকত আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত ইবিএল সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ১২৫ বার নগদ অর্থ উত্তোলন করেছেন ইস্টার্ন ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া তার কন্যা জারা নামরীনের ইবিএল আগ্রাবাদ শাখার হিসাবের ২০১৫ সালের এপ্রিলে এক মাসে জমা হয়েছে ৩১ কোটি টাকা, যা তার পরিচিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে ছেলে জারান আলীর মিডল্যান্ড ব্যাংক হিসাবেও অতিরিক্ত অর্থ জমা ও উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে বলা হয়, শওকত আলী চৌধুরী ২০১২ সাল থেকে জাহাজ ভাঙার নামে ১৪১টি এলসি খুলেছেন। এর মধ্যে ১১টির ক্ষেত্রে আমদানি করা ভেসেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর প্রমাণ মেলেনি। তদন্তে দেখা গেছে, এসব এলসির বেনিফিসিয়ারি হিসেবে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত তিনটি শেল কোম্পানি ব্যবহৃত হয়েছে, যাদের প্রকৃত অস্তিত্বও প্রশ্নবিদ্ধ।

এছাড়া শওকত আলী চৌধুরী রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসা বিস্তার করেছেন। তিনি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ জে এম নাসির, শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস আলাউদ্দিন নাসিম, ব্যবসায়ী নাফিস শারাফাত এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। সিডিনেট কমিউনিকেশন লিমিটেডে তাদের যৌথ মালিকানার তথ্য আরজেএসসি রেকর্ডে পাওয়া গেছে। শওকত আলী চৌধুরী সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে অবৈধ অর্থে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সিঙ্গাপুরে তার নামে দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার একটি সম্প্রতি তিনি বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে।

আইনজীবী কামরুল ইসলামের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে অন্যরা একই অপরাধে উৎসাহিত হবে। তাই তিনি দ্রুত দুদকের অনুসন্ধান শুরু করার দাবি জানান।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..