শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
আমতলীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ আবু নাছের রায়হানের বদলির আদেশে কাঁঠালিয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রত্যাহারের দাবি সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির শোভাযাত্রা যেসব সড়কে, অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী বেতাগীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত মোরেলগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

ধানমন্ডিতে ১২ বছরের গৃহকর্মী শিশু রিক্তার মৃত্যু: অভিযুক্ত পাউবো প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দম্পতির ১৫ দিনে জামিন, নেপথ্যে টাকা নাকি চাপ?

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৮৩০ বার পঠিত

১০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১২ বছরের রিক্তা মনির লাশ শেষ পর্যন্ত কয় টাকায় বিক্রি হলো? সুনামগঞ্জের সালনা থানার নিজগাঁও গ্রামের রিক্তা, পুরো নাম রিক্তা মনি। চার বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। পিতা দিনমজুর শাহিন মিয়া, মাতা মাজেদা বেগম। পারিবারিক অসচ্ছলতা মেটাতে বাবা রিক্তাকে মাসিক ৪ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে পাঠান ঢাকার ধানমন্ডিতে। গৃহকর্তা সবিবুর রহমান পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, গৃহকর্ত্রী নুসরাত বর্ণি। রিক্তা যখন গৃহকর্মীর কাজে যোগ দেয়, তখন তার বয়স ১২ বছর।

তবে এই নিয়োগে ছিল একাধিক দালাল বা ফরিয়া। রিক্তার বাবার পরিচিত গাজিবুর, তার পরিচিত আইয়ুব আলী… এই দুজনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের রিক্তা মনি ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানমন্ডিতে কাজ পায়। এর বিনিময়ে আইয়ুব আলী আর গাজিবুর পায় ১০ হাজার টাকা।

কয়দিন পরেই ইমোতে কল করলে রিক্তা কান্না কাটি করে শারীরিক নির্যাতনের কথা জানায় মাকে। তখন তার চোখ মুখ ফোলা ছিল। গৃহকর্ত্রী বর্ণি ফোন কেড়ে নেয়। মাজেদা বিষয়টি স্বামীকে জানান। পিতা শাহীন গৃহকর্ত্রী বর্ণিকে ফোন করে কন্যা রিক্তাকে ফেরত চাইলে বর্ণি বলে রিক্তাকে ফেরত চাইলে দালালদেরকে দেওয়া ১০ হাজার টাকাও তাকে ফেরত দিতে হবে। বিকাশে টাকা পাঠাতে বলে বর্ণি।

এক পর্যায়ে এতেও রাজী হয় শাহিন। গত ১৮ জুন মা মাজেদা ফোন করলে বর্ণি বলে পরদিন সকালে ফোন দিলে রিক্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবে। পরদিন ১৯ জুন সকাল ৭টায় দালাল গাজিবুর শাহিন মিয়াকে ফোন করে জানায় রিক্তা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উত্তরায বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। মাজেদা আর গাজিবুর সেখানে গিয়ে বর্ণিকে ফোন করলে বর্ণি তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়। তারপর ফোন বন্ধ করে দেয়।

দুই ঘণ্টা পর আরেক দালাল আইয়ুব আলী ফোনে গাজিবুরকে জানায় যে রিক্তা ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। মাজেদা আর গাজিবুর সেখানে গিয়ে দেখে রিক্তা মনির লাশ অ্যাম্বুলেন্সে রাখা। রিক্তার বাম হাত ভেঙে মাংসপেশি ছিঁড়ে হাড় বেরিয়ে গেছে। তখন পিতা শাহিন মিয়া ধানমন্ডিতে গিয়ে জানতে পারেন ভোর ৬টায় ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের ১১ তলা বাসার বারান্দা থেকে নিচে পড়ে গেছে। অভিযোগ ওঠে রিক্তাকে নির্যাতন ও হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় পাউবোর প্রকৌশলী সবিবুর আর বর্ণির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন দিনমজুর শাহিন। দুই আসামীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর জুলাইয়ের ৭ তারিখে তারা জামিনে মুক্তি পান। বাদীপক্ষ আদালতে হাজির হয়ে বলেন যে ভুল বুঝে হত্যা মামলা করা হয়েছে, আসলে তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আসামিদের ভুল বুঝে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে, তাদের জামিনে আপত্তি নাই শাহিন এবং মাজেদার। ‘আপোস হয়েছে কি না’- সাংবাদিকদের এরকম প্রশ্নের জবাবে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন ‘হতেও পারে। আমি জানি না। এ ধরনের মামলা টাকা ছাড়া কি আপস হয়?’ দুই দালাল গাজিবুর আর আইয়ুব আলীর কী হয়েছে তা জানতে পারলাম না। জীবন্ত রিক্তা তো বিক্রি হয়েছিল ১০ হাজারে, মৃত রিক্তা বিক্রি হলো কতোতে? সেটাও জানা গেল না।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..