শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দুটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে পূর্ণ অর্থায়নে নির্বাচিত বাংলাদেশের যুব প্রতিনিধি জুবায়ের হোসেন বাংলাদেশের সহকারী-অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিযুক্ত হলেন দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা অ্যাড: খন্দকার এম. মনিরুজ্জামান বাংলাদেশের সহকারী-অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিযুক্ত হলেন মির্জাগঞ্জের কৃতি সন্তান অ্যাড: খন্দকার এম. মনিরুজ্জামান সান্তাহারে যুবসমাজকে খেলাধুলা মুখী করতে বল বিতরণ আমতলীতে পিভিএ ও এনএসএস-এর উদ্যোগে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা বিতরণ বন্ধ কারখানা মালিকদের সুখবর দিল প্রধানমন্ত্রী কামিল পাস করেও চাকরির অপেক্ষা নয়, ফাস্টফুড ব্যবসায় সফল শারমিন আমতলীতে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার জনতা ব্যাংক পিএলসি নান্দাইল রোড বাজার শাখা স্থানান্তরের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ : ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ

পটুয়াখালীতে সংস্কার কাজে অনিয়ম, ঝুঁকিতে গ্রামীণ সড়কের স্থায়িত্ব

মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৮৪৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের মহাসড়ক সংলগ্ন সি এন্ড বিষয় বাজার থেকে পশ্চিম দিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের মান এমন নিম্ন পর্যায়ের যে আগামী এক থেকে দুইটি বর্ষা মৌসুম পার হওয়ার আগেই সড়কটি পুনরায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্পেটিং এর কাজ করার জন্য সকল মালামাল নিয়ে সাইটে অপেক্ষা করছে। কোনভাবে সরকারি অনুমোদন পেলেই কার্পেটিং কাজ শুরু করবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মরিচবুনিয়া ইউপিসি হতে সিএন্ডবি বাজার (শাকরিয়া ব্রিজ) পর্যন্ত এবং সেখান থেকে বাজারঘোনা আশ্রয়ণ প্রকল্প সড়ক হয়ে পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ (পটুয়াখালী সদর) শীর্ষক এ প্রকল্পটি GOBM/2025-2026 প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। সড়কটির ১৬৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের কাজের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ লাখ ২ হাজার ৩ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯০২ টাকা ৮৫ পয়সা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স এসটিএম কন্সট্রাকশন।

চুক্তি অনুযায়ী ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কাজ শুরু হয়ে ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি ডিজাইন, ড্রয়িং ও এস্টিমেট উপেক্ষা করে মনগড়াভাবে কাজ করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মিত এ সড়কটি নির্মাণকালীন দুর্নীতির কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুনরায় একই ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে সংস্কার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ইটের সাথে পুরাতন রাস্তার তুলে আনা ভাঙা ও পচা ইট মিশিয়ে খোয়া তৈরি করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। অনেক স্থানে পুরাতন পিচ বা ইটের স্তর অপসারণ না করেই তার ওপর নতুন খোয়া ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তারা।

সরে জমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সাবগ্রেডে কোনো ধরনের মেরামত বা যথাযথ কম্পাকশন ছাড়াই ইট বসানো হচ্ছে। যেখানে আর্থওয়ার্কে ৩০০ মিলিমিটার বক্স কাটিং থাকার কথা, সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ১৫০ মিলিমিটার। এছাড়া এস্টিমেট অনুযায়ী বালু ভরাটও যথাযথভাবে করা হয়নি। পুরাতন ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং না সরিয়ে তার উপর নিম্নমানের পচা ইটের খোয়া বিছানো হয়েছে।

আরো দেখা যায়, বর্তমানে কার্পেটিং করার জন্য পিস ঢালাই মেশিন, পিস, পাথরের গুড়া ও শ্রমিক নিয়ে ঢালাই করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। রাস্তায় বিছানো ইটের খোয়া অর্ধেক পরিমাণ গুড়া হয়ে রাস্তায় মিশে গেছে। অধিকাংশ স্থানের রাস্তার পুরুত্ব আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি। এজিন অধিকাংশ জায়গায় ভেঙে গিয়েছে তবে কোথাও কোন রোড সোল্ডার চোখে পড়েনি।

স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণন শিকদার বলেন, রাস্তার কাজ প্রথমে পুরাতন ইট দিয়ে করা হয়েছে। পরে আরো পুরাতন ইটের সঙ্গে দুই নাম্বার ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করা হয়েছে। এটার উপর এখন পিস ঢালাই করলে এ রাস্তা দুবছরের টিকবে না।

পথচারী মোঃ সুবাহান ফকির বলেন, সারা রাস্তায় কিছু নতুন ইট, কিছু পুরাতন ইট। এটা কোনো মানসম্মত কাজ না। এভাবে প্রতি বছর কাজ করলেও রাস্তা কখনো ভালো হবে না।

এ প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী (S.A.E) হিসেবে রয়েছেন মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং কার্য-সহকারী হিসেবে সাদ্দাম হোসেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশেই এসব অনিয়ম হচ্ছে।

ঠিকাদার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঢালাই দেওয়ার মালামাল নিয়ে রাখছি কারণ সময় মত ঢালাই এর মেশিন ও লোকজন পাওয়া যায় না। পীর ঝালাই দেওয়ার অনুমতি এখনো পাইনি কারণ কিছু কিছু জায়গায় কাজ বাকি রয়েছে, ওইসব কাজ শেষ করলে অফিস থেকে অনুমতি পাওয়া যাবে। কাজের শুরুতে এজিনে কিছু পুরাতন গিয়েছিলাম কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ পরিবর্তন করে নতুন ইট দিয়েছি। পুরাতন পিস আপনার সাথে মিক্স করে দেয়া ভালো এতে রাস্তা টেকশই হয়।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ খাইরুল বাসার বলেন, গতকাল আমি ও নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিনিধি সহ একাধিক কর্মকর্তা ওখানে গিয়ে রাস্তা ভিজিট করেছি। কাজের মান শতভাগ হয়নি কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি আছে। সংশোধনের সুযোগ দিয়েছি ঠিক না করা পর্যন্ত যুগের অনুমোদন পাবেনা।

সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন মোল্লা বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কোন বিল দেওয়া হয়নি। দৃশ্যমান কাজ যাই হোক অফিসিয়াল আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি নাই। ঢালাই কাজ শুরুর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে, আমরা ইন্সপেকশন করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি, নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করলে কোন অনুমোদন পাবে না কোন বিল পাবেনা।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..