রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
অভয়াশ্রমে ফিরছে দেশীয় মাছের রাজত্ব, বদলাচ্ছে জেলেদের জীবন লেখালেখি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি ছড়াচ্ছেন শাম্মী তুলতুল বগুড়ার সান্তাহারে পূবালী ব্যাংকের র‍্যালি ও মতবিনিময় সভা: লক্ষ্য ‘ক্যাশলেস সান্তাহার তদন্ত পূর্বক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মোরেলগঞ্জে দুর্বৃত্তদের আগুনে ব্যবসায়ীর দোকান পুড়ে ছাই মোরেলগঞ্জে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেন হাফেজ উমর বিন মোহাম্মদ আগস্টে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে যেসব সুবিধা এসএসসির ফল ২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না, সম্ভাব্য সময় জানালো বোর্ড সড়কের ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মব সহিংসতায় ৬ মাসে ১৩৫ জনের মৃত্যু: বিসিআরএস-এর মানবাধিকার প্রতিবেদন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করায় নিজ কলেজে সংবর্ধিত হলেন ড. শামিমা নাসরিন

গলাচিপায় কলেজে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি, জমি দখল ও অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৭৯ বার পঠিত
ছবি: একাধিক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মুঃ মহসিন উদ্দিন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া আদর্শ কৃষি ও কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুঃ মহসিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার তহবিল আত্মসাৎ, অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি ল্যাবের টাকা আত্মসাৎ এবং কলেজের জমি দখলের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকার ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে ছয় জনের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে এই দুর্নীতি উঠে এসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সাল পর্যন্ত কলেজটি অত্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে ২০১২ সালে রাজনৈতিক ও প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি বা ইন্টারভিউ ছাড়াই, রেজুলেশন ঘষামাজা করে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ পদে বহাল হন তৎকালীন প্রভাষক মোঃ মহসিন উদ্দিন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা দিয়ে তিনি পটুয়াখালী শহরে একটি ৫ তলা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মূলত যে সব অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে:

ভর্তি ও পরীক্ষা ফি বাবদ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সরকারি নিয়মানুযায়ী সেমিস্টার প্রতি ২৫০০ টাকা নেওয়ার বিধান থাকলেও, তিনি ছাত্র প্রতি ৩৫০০ টাকা করে আদায় করেন। এভাবে বিগত ১৩ বছরে ২০০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তি, পরীক্ষা ফি, রিটেক পরীক্ষা, মসজিদ ফান্ড ও সার্টিফিকেট বিতরণ বাবদ মোট ১ কোটি ৭ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন, যার কোনো অংশই অন্য শিক্ষক বা কর্মচারীরা পাননি।

নিয়োগ বাণিজ্য পকেট কমিটি গঠন:

২০২৩ সালে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, নৈশপ্রহরী ও অফিস সহায়ক পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। এই নিয়োগ বৈধ করতে এবং নিজের অপকর্ম ঢাকতে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে ৩০-৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকার আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে একটি গোপন ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছেন।

সরকারি অনুদান সম্পদ লোপাট:

বিগত অর্থ বছরে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’-এর জন্য বরাদ্দকৃত ৬৫,০০০ টাকা এবং কলেজের গাছ বিক্রি বাবদ ৪,৫০,০০০ টাকা কলেজের তহবিলে জমা না করে সরাসরি নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

কলেজের জমি দখল:

স্থানীয় বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কলেজের খতিয়ানভুক্ত (৩৭১, ৩৬৮, ৩৭২) এবং দাগ নম্বর (১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪) সংবলিত প্রায় ২ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে তার সম্পূর্ণ আয় নিজে ভোগ করছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম:

কলেজটিতে কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ অডিট বা ক্রয় কমিটি নেই। ভাউচার ছাড়াই ইচ্ছেমতো কলেজের টাকা খরচ করা হয়। এছাড়া, অধ্যক্ষ নিয়মিত কলেজে আসেন না এবং আসলেও দুপুর ১২টার পর কলেজ ত্যাগ করেন, যার ফলে শিক্ষাকার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী, জমিদাতা ও স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ সহিদুল গাজী, মোঃ রেফাকুল ইসলাম, মোঃ জহিরুল ইসলাম খান, মোঃ তসলিম খান, মোঃ মোশফিকুর রহমান ও মোঃ আলাউদ্দিন ফকিরসহ ছয় জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন:

জেরা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দেয়ার পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদনের জন্য বলা হয়, যার স্মারক নম্বর: ০৫.১০.৭৮০০.০২০.১০.০১৩.২২-৬৫৭, তারিখ: তারিখ: কার্তিক ১৪৩২ / ১৭ নভেম্বর ২০২৫, জেলা শিক্ষা অফিসার আবার গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলামকে ৭-দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলেন, যার স্মারক নম্বর : জেশিঅ/পটু/ ৯৯৪। কিন্তু প্রায় ৯ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। যার কারনে জেলা/উপজেলা শিক্ষা অফিস অধ্যক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন বলে দাবী অভিযোগকারীদের।

এ বিষয়ে অভিযোগকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সকলেই এর সুষ্ঠ তদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের অধ্যক্ষকে অপসারনের দাবি জানান।

অধ্যক্ষ মুঃ মহসিন উদ্দিনের সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, মুঠোফোনে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাঃ মুজিবর রহমান প্রথমে অভিযোগপত্র পাইনাই বলে অস্বীকার  করলেও পরে আবার তার ইস্যু করা চিঠির কথা উল্লেখ করলে স্বীকার করে বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন প্রদান করা হবে। প্রতিবেদন দিতে দেরী হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারে নাই।

গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশকে বলেন ব্যস্ততার কারনে প্রতিবেদন দিতে পারিনাই খুব শীঘ্রই দেয়া হবে।

অভিযোগে অনতিবিলম্বে ২০২৫ সালের এই অবৈধ পকেট কমিটি বাতিল, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার, চলমান চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত এবং অবৈধ দখলকৃত জমি অবমুক্ত করার দাবি জানান। একই সাথে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করে কলেজের কোনো যোগ্য সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..