সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

বাউফলে সরকারি রাস্তা অবৈধ দখল করে দোকানঘর ও দ্বিতল ভবন নির্মাণ!

​পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭৫৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তা অবৈধ দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন এক দখলদার। ৪৩নং জে.এল এর কালিশুরী মৌজার ১নং খতিয়ানের ১৪২৪নং দাগের এই রাস্তাটি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিশুরী বন্দরের মাঝখানে সরকারি টিউবওয়েলের দক্ষিণ পাশ থেকে নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তাটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটির বড় একটি অংশ প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে রয়েছে। দখলদার মোঃ কামাল হোসেন নিজের জমি লাগোয়া সরকারি রাস্তার ৫ফুট জায়গা দখল করে দুই তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। ভবনের এর নিচতলায় কামালের মালিকানাধীন “লাল মিয়া ছাতার দোকান” এবং দ্বিতীয় তলায় “এনজিও অফিস” ভাড়া দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাস্তায় ঢুকতে হাতের ডান মো. বাবুল হোসেন এর ১৩ ফুট দোকানের ৮ ফুটের অধিক দখলকৃত জায়গায় তিনি দোকান নির্মাণ করেছেন।

রাস্তার দু’পাশে অবৈধ দখল থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি ২০১২ সালে বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় রাস্তা সরু ও দখল হয়ে থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল সংখ্যক দোকানপাট ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও গত ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে ওই রাস্তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পূনরায় অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। তখনও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে না পারায় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার রাস্তাও এটি।

স্থানীয় ভাবে অভিযোগ রয়েছে, কালিশুরি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মোঃ কামাল হোসেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব তালুকদার এর সহযোগী হিসেবে সরকারি জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ ও সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন মোল্লা (ধলু) জানান, বন্দরের এক হাজারের বেশি দোকানঘরের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই রাস্তাটি দখলমুক্ত করা জরুরি। বর্তমানে রাস্তাটি জবরদখল হয়ে থাকায় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অবৈধ দখলদার ভবন মালিক মো. কামাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় শালিসগন মাপঝোঁক করে আমাকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমার কবলাকৃত সম্পত্তিতে আমি ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করতেছি।

​এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, ‘ক’ তফসিল ভুক্ত আমাদের সম্পত্তি যদি কেউ অবৈধ দখল করে থাকে, তবে আমরা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবো। জনস্বার্থে সরকারি জায়গা উদ্ধারে কোনো আপস করা হবে না এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..