বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

এবার চাকরি দেয়ার নাম করে জমি আত্মসাতের অভিযোগ মির্জাগঞ্জের “সুবিদখালী মহিলা কলেজে”র অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে: থানায় লিখিত অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ৫৮২১ বার পঠিত

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। আর সেই মেরুদণ্ড গঠনের দায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই শিক্ষকরাই বা শিক্ষকদের অভিবাবকরাই যখন দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন, তখন পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এমনই এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর ব্যপক অভিযোগ উঠেছে।

চাকরি দেয়ার নাম করে টাকা আত্মসাতের পরে এবার চাকরি দেয়ার নাম করে জমি আত্মাসাতের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার “সুবিদখালী মহিলা কলেজে”র অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। যার বর্তমান বাজার দর প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারাবুনিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী মজিবুল হক সানু।

থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায় “সুবিদখালী মহিলা কলেজে”র অধ্যক্ষ মোঃ আবদুর রহমান চাকরি দেয়ার নাম করে মজিবুল হক সানুর স্ত্রী শাহীদা বেগমের ০২ (দুই) শতাংশ জমি (যার বর্তমার বাজার মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা) জোর করে দখল করে কলেজের বাউন্ডারির ভিতরে নিয়ে নেয় আবদুর রহমান।

ভুক্তভোগী মজিবুল হক সানু অভিযোগে বলেন- মির্জাগঞ্জ থানাধীন, মৌজা-উত্তর সুবিদখালী, জেএল নং-৪০, এসএ খতিয়ান নং-৫০/১২৬/১২৩, দাগ নং- ১২৪৫।  তফসিল বর্নিত সম্পত্তি আমার শশুর-আদম আলী সিকদার এর সম্পত্তি, তিনি ১৭/৫/১৯৬৪ইং সালে ৪১০৮ নং দলিল মুলে ক্রয় সূত্রে ০৮ (আট) শতাংশ জমির মালিক। আমার শশুরের  মৃত্যুর পরে আমার স্ত্রী এবং স্ত্রীর তিন বোন পৈত্রিক সূত্রে উক্ত সম্পত্তির মালিক হন। শশুরের জেহেতু কোন পুত্র সন্তান নেই তাই তার মেয়েরা জমির মালিক হওয়াতে সুবিদখালী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবদুর রহমান আমার শশুরের পরিবার থেকে ২ জনকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমার স্ত্রী শাহীদা বেগমের ০২ (দুই) শতাংশ জমি জোর করে দখল করে কলেজের বাউন্ডারির ভিতরে বেদখল করে নিয়ে নেন। পরবর্তীতে জমি ফেরত চাইলে প্রতারক অধ্যক্ষ আবদুর রহমান উক্ত জমির বাজার দর টাকা দিবে বলে আর দেয় নাই, আমাদের সাথে বিভিন্ন ছলচাতুরী ও নানান ভাবে টাল বাহানা করে আসছে। জমি ফেরত পাওয়ার আশায় বা বাজার দরে বিক্রি করার জন্য কলেজের অধ্যক্ষকে বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি জমি বা জমির মূল্য কোনটাই পরিশোধ করে নাই। উক্ত জমির বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের শরনাপন্ন হয়েও কোন সামাধান পাই নাই। এখন টাকা বা জমি চাইতে গেলে আবদুর রহমান আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকী দিচ্ছেন। এমনকি আমাদেরকে প্রাণ নাশেরও হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় আমরা জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

‎অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আবদুর রহমান বলেন মজিবুল হক শানুর সাথে আমার কোন লেনদেন নাই আর তার কোন জমি আমি নেই নাই।

মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ছাড়াও অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করা, রেজুলেশন বই না দেওয়া, এবং বরখাস্ত/পদত্যাগকৃত শিক্ষকদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে একাধিক ব্যক্তির থেকে টাকা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অমান্য করে একই বিষয়ে একাধিক ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে এমপিও ভুক্তি করার চেষ্টায় অধ্যক্ষ’র এমপিওভুক্তি বাতিল করারও নোটিশ জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। যা নিয়ে বিস্তারিত থাকছে আগামী পর্বে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..