বরগুনার তালতলী উপজেলার হুলাটানা গ্রামে প্রতিবেশী বাহাদুর প্যাদাকে হত্যা করতে এসে তাকে না পেয়ে তার দুটি গরু কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছত্তার হাওলাদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বাহাদুর প্যাদা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুলাটানা গ্রামের শহীদ তালুকদারের এক একর জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘের কাটার চেষ্টা করছিলেন ছত্তার হাওলাদার ও তার সহযোগীরা। এ বিষয়ে গত ২০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ঘের কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপর থেকেই বাহাদুর প্যাদাকে সন্দেহ করে বিভিন্ন সময় তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাহাদুর প্যাদা অভিযোগ করে বলেন, “বৃহস্পতিবার সকালে ছত্তার হাওলাদারের নেতৃত্বে হামেজ মৃধা, নাশির মৃধা, জসিম মৃধা, জুয়েল হাওলাদার, নজরুলসহ ২০ থেকে ২৫ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাকে হত্যা করতে আমার বাড়িতে আসে। আমি বাড়িতে না থাকায় তারা আমার দুটি গরুকে কুপিয়ে জখম করে। আমি এ ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, একদল লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাহাদুর প্যাদাকে খুঁজতে আসে। তাকে না পেয়ে তারা গরু দুটির ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছত্তার হাওলাদারের মেয়ে লাইলী বলেন, “বাবা ফোন রেখে কোথায় যেন গেছেন।” পরে বাহাদুর প্যাদার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তালতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা সঞ্জয় সিকদার বলেন, “গরুর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গরু দুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”