উপকূলীয় জনপদ মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় সুপেয় পানির সংকট দ্রুত নিরসনের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বাগেরহাট-৪ আসনের মোরেলগঞ্জ -শরোনখোলার বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগী নারীসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠী অংশ নেন।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ‘সৃজন’ প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ পানির সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও জোয়ারের কারণে মিষ্টি পানির উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে রয়েছেন উপকূলের লাখো মানুষ। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নারী, শিশু ও দরিদ্র পরিবারের ওপর।
বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ পানির জন্য অনেক নারী ও শিশুকে দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এতে তাদের সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তাই পানির সংকটকে শুধু জনদুর্ভোগ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও জলবায়ুজনিত সংকট হিসেবে বিবেচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সমাবেশ ও পদযাত্রা থেকে ব্যক্তি ও কমিউনিটি পর্যায়ে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সরকারি পুকুর ও জলাধার নিয়মিত খনন ও পুনঃখনন, বাঁধ সংস্কার করে লবণ পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ, অকার্যকর পিএসএফ দ্রুত মেরামত ও নতুন পিএসএফ স্থাপন, পানির মান পরীক্ষার সুবিধা সহজলভ্য করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি-ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া সুপেয় পানি সংগ্রহে নারী ও শিশুর শ্রম ও ঝুঁকি কমাতে সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি ও জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের দাবিও তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
কর্মসূচিতে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, যুব সমাজের সদস্য,শিক্ষক সমাজ,কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ অংশ নেন। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ কর্মসূচিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান বলেন, উপকূলের মানুষের নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের ইউনিট ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান।পরে পদযাত্রা শেষে মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং নাগরিক সমাজের ক্ষমতায়ন (সৃজন) প্রকল্প’-এর আওতায় নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নাগরিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম। সভাপতিত্ব করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ।
সংলাপে উপকূলবাসীর নিরাপদ পানির সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্থানীয় পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সমাধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরেন এবং সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ কামনা করেন।পরে ভুক্তভোগী নারীদের পক্ষ থেকে টেকসই বেড়িবাঁধ বাস্তবায়নের দাবিতে একটি স্বারক লিপি সাংসদ সদস্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। এতে সহযোগিতা করছে বিএমজেড ও নেজ বাংলাদেশ।