বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
এনবিআরের শহিদুল ইসলামের দেশজুড়ে শত কোটি টাকার সাম্রাজ্য:স্বপরিবারে মালয়েশিয়ায় চম্পট! প্রাণিসম্পদের প্রকল্প পরিচালক ডা. আব্দুর রহিমের হাতে কর্মকর্তারা জিম্মি ! আরপিসিএল’র এমডি নিয়োগে নজিরবিহীন জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ ! গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আজাদের অভিনব টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ বিআইডাব্লিউটিএর প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে লুটপাট ও দূর্নীতির মহাযজ্ঞ ভুয়া মার্কিন ডাক্তারের মুখোশে প্রতারণার সাম্রাজ্য মুজিবুলের ঢাকার ‘সবুজ ফুসফুস’ যেন নীরব ঘাতক বিটিআরসি উপপরিচালকের জিও অতিরিক্ত বিদেশে অবস্থান, ধামাচাপার চেষ্টা

আরপিসিএল’র এমডি নিয়োগে নজিরবিহীন জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৫৪ বার পঠিত

রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডে (আরপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিলেকশন কমিটির সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন এবং মেধাতালিকা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ব্যাকডোর ডিপ্লোমেসি ও অদৃশ্য শক্তির জোরে এক অযোগ্য প্রকৌশলীকে শীর্ষ পদে বসানোর তথ্য মিলেছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের আমলে সব নীতি-নিয়ম ও জবাবদিহিতা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আরপিসিএল-কে একটি নির্দিষ্ট মাফিয়া সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আরপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিলেকশন কমিটির চূড়ান্ত পরীক্ষায় ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৬.৩৩ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান। অন্যদিকে ৭৪.৮৩ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হন প্রকৌশলী এএইচএম রাশেদ।

গত ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৩৭৬তম বোর্ড সভায় (সিদ্ধান্ত নং-২৭১৭) মেধাতালিকার প্রথম স্থান অধিকারী মোঃ কামরুজ্জামানকে এমডি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীদের অপেক্ষমাণ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তৎকালীন আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এসএম জিয়া-উল-আজিম, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কে. এম আলী রেজাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত এই সুপারিশপত্রটি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের দপ্তরে পাঠানো হয়।

বোর্ড সভার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও মেধাতালিকা থাকার পরেও, সবাইকে অন্ধকারে রেখে গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-২ শাখার এক রহস্যজনক স্মারক মূলে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হওয়া প্রকৌশলী এএইচএম রাশেদকে ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আরপিসিএল-এর এমডি নিয়োগে সাবেক উপদেষ্টার সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের ২৮ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ৭৮.৮৩ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন প্রকৌশলী মোঃ সেলিম ভূঁইয়া। সিলেকশন কমিটি তাকে নিয়োগের জোর সুপারিশ করলেও গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তৎকালীন উপ-সচিব রোকসিন্দা ফারহানা স্বাক্ষরিত এক পত্রে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া বর্তমান এমডি এএইচএম রাশেদ ইতিপূর্বে আরপিসিএল-এর নির্বাহী পরিচালক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অনুত্তীর্ণ (ফেল) হয়েছিলেন। এমনকি এমডি পদের লিখিত পরীক্ষাতেও তিনি পাস করতে পারেননি।

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইনচার্জ থাকাকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট দীর্ঘ ১ বছর অকেজো পড়ে থাকলেও তা সচল করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন তিনি। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুটি পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া এই কর্মকর্তা পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি নিজের রূপ বদলে বিদ্যুৎ খাতের একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের সহায়তায় এই শীর্ষ পদটি দখল করেন।

অদক্ষ ও অযোগ্য নেতৃত্বের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আরপিসিএল-এর উৎপাদন খাতে। বর্তমান এমডি একই সাথে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আরএনপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। সঠিক তদারকি ও যোগ্য দূরদর্শিতার অভাবে আধুনিক এই পাওয়ার প্ল্যান্টটি এখন পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরপিসিএল-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম রাশেদ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..