শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
তাড়াইলের গজেন্দ্রপুর দালানবাড়ি মাদরাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্ত কমিটি আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল হাসানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ যশোরের বসুন্দিয়া ভূমি কর্মকর্তা পলাশের ‘হাদিয়া’র নামে ওপেন সিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য: মাদ্রাসার জমি নামজারিতেও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ! ধানমন্ডিতে ১২ বছরের গৃহকর্মী শিশু রিক্তার মৃত্যু: অভিযুক্ত পাউবো প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দম্পতির ১৫ দিনে জামিন, নেপথ্যে টাকা নাকি চাপ? এলজিইডি নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানউজ্জামান দুলালের শত কোটি টাকার অনিয়ম ১৫বছরের চাকরি জীবনে ৯০ লাখ টাকা বেতন পেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ দুর্নীতির অভিযোগে দক্ষিণ সিটির আনিস, বোরহান চসিকের শাহীন, ফারজানা মুক্তা ৪ প্রকৌশলীর দেশ ত্যাগ ঠেকাতে নির্দেশ সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের নায়েব ঘুষের ‘মহারাণী’ শর্মিষ্ঠা সরকারের মাসিক হাত খরচ লাখ টাকা মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির বিশ্বস্ত হাতিয়ার উমেদার ‘আওলাদ সিন্ডিকেট’ জিম্মি সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার কাজিয়া সুলতানা দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

প্রাণিসম্পদের প্রকল্প পরিচালক ডা. আব্দুর রহিমের হাতে কর্মকর্তারা জিম্মি !

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৮৩৫ বার পঠিত

আওয়ামী রাজত্বের অবসান ঘটলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে দরপত্রে অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য ও চাঁদা আদায়ের হরিলুট চলছেই। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেতরের মাফিয়া চক্রের চেনা চিত্র এক চুলও বদলায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো দুর্নীতির মূল সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে রয়েছেন মানিকগঞ্জ, ঢাকা,মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম। সাথে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের তৎকালীন এপিএস হিল্টন কুমার সাহা।

জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের প্রভাব খাটিয়ে এই অধিদপ্তরের সব দরপত্রই বাগিয়ে নিতেন হিল্টন কুমার সাহা। বর্তমানেও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ ব্যাহত করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি খামারের দরপত্র কার্যক্রমে এখনো একক রাজত্ব রয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের ফ্যাসিস্ট মন্ত্রীর এপিএস হিল্টন। প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিমকে সম্প্রতি রাজধানীর ৮৩/৪ মনিপুরী পাড়ায় আনোয়ার ম্যানসনের তৃতীয় তলায় প্রায় ৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট উপহার সরূপ ঠিকাদার হিল্টন কুমার সাহার নিকট থেকে নিয়েছেন।

গবাদি পশুর খাদ্য ক্রয়ে এমন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে যার কোন যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাই। বিশেষ কোন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহকারীর নিদিষ্ট পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দরপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আর সেই দরপত্র কৌশলে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের তৎকালীন এপিএস হিল্টন কুমার সাহার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাগিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকার কাজ। এতে সরাসরি জড়িত রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম নিজেই। এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ৭ জুন (স্মারক নং- ৩৩.০০.০০০০.১৪০.১৪.০০০৪.২৪-২৬) কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি এ শোকজ নোটিসে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিমের তেমন কিছুই সবে না মুলত এটা লোক দেখানো শোকজ।

সূত্র জানায়, এইচ এন এন্টারপ্রাইজ ও লুৎফা এন্ড সন্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হিল্টন কুমার সাহা অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন মনগড়া শর্ত সংযুক্ত করে দরপত্রে তাদের অংশগ্রহণ ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ সক্রিয় রেখেছেন। নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ আরও দুটি ছায়া প্রতিষ্ঠান পর্দার আড়াল থেকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম ও হিল্টন কুমার সাহা।

এছাড়াও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের নিকট থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালকাটা কর্মসূচী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিকট থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদা তুলেছেন। আর এই কাজে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিমের হাতে জিম্মি হয়ে পরেছে কর্মকর্তারা।

মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্পের আওতায় বিতরণ কৃত হাঁস, মুরগী, ছাগল, ভেড়ার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। কোথায় বিতরণের পরে মরে গেছে আবারও কোথায় বিতরণের হাঁস, মুরগী, ছাগল, ভেড়ার ছবি তুলে বিতরণ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিমকে তার মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি। বিষয়টিতে মন্ত্রণালয় ও দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবী করেছেন সচেতন মহল।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..