সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জে বিআরডিবির সমবায় সমিতির ম্যানেজিং কমিটি দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্টমুক্তভাবে গঠনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আদমদীঘিতে দলিল লেখক সমিতির আয়োজনে এমপিকে সংবর্ধনা তাড়াইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান মোরেলগঞ্জে জলবায়ু, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বরগুনার তালতলীতে ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মোরেলগঞ্জে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান বেতাগীতে মাদকমুক্ত গড়ার প্রত্যয়ে পুলিশ-জনতার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ মোরেলগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শহীদ আরমান: কিশোরগঞ্জের ধর্মীয় আন্দোলনের এক স্মরণীয় নাম

জুবায়ের আহমাদ জুয়েল (নিজস্ব প্রতিবেদক):
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৯১ বার পঠিত
শহীদ আরমান---------------ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ধর্মীয় আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় এক নাম শহীদ আরমান। ১৯৯৪ সালের ৩০ জুন কোরআনবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে ঘোষিত হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কিশোর আরমান। দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার স্মৃতি আজও কিশোরগঞ্জবাসীর হৃদয়ে অম্লান হয়ে রয়েছে।

শহীদ আরমান কিশোরগঞ্জ শহরের পুরান থানাধীন শহীদি মসজিদ সংলগ্ন এলাকার এক ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মরহুম আনোয়ার হোসেন ও মরহুমা হামিদা আক্তারের সন্তান। চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন আরমান। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং আল্লামা শফিকুর রহমান জালালাবাদীর নিকট পবিত্র কোরআন শিক্ষা লাভ করেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

১৯৯৪ সালে লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ইসলাম ও কোরআন সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে দেশের আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্যোগে ৩০ জুন দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেওয়া হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ.)।

সেদিন কিশোরগঞ্জ শহরের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কিশোর আরমান গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। একই ঘটনায় মাওলানা আশরাফ আলী গাজী আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আরমানের শাহাদাতের খবর দ্রুত কিশোরগঞ্জজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসেন। শহরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ.) আন্দোলনকারীদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং ঘটনার বিচার দাবি জানান।

তৎকালীন সংসদ সদস্য মাওলানা আতাউর রহমান খান (রহ.) জাতীয় সংসদে আরমান হত্যার বিচার দাবি করে বক্তব্য দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তবে পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও দৃশ্যমান হয়নি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, শহীদ আরমানের পিতা জীবদ্দশায় বলতেন, “আমার ছেলের হত্যার বিচার মহান আল্লাহর কাছেই সোপর্দ করলাম।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও পরিবার প্রত্যাখ্যান করেছিল।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, আরমানের মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত বালিশের নিচে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল
“মা, আমি যদি তাসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহীদ হয়ে যাই, তাহলে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও।”

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরিতে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শহীদ আরমান ও অন্যান্য শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত আলেমরা কাচারিবাজার থেকে একরামপুর মোড় পর্যন্ত সড়কটির নাম “শহীদ আরমান সড়ক” হিসেবে পুনঃনামকরণের দাবি জানান। বক্তাদের মতে, অতীতে পৌরসভার উদ্যোগে এ নামে একটি নামফলক স্থাপন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সড়ক সম্প্রসারণের সময় অপসারণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জের ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনের অনেকের প্রত্যাশা, শহীদ আরমানের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে তার নামে সড়কের নামকরণসহ স্থায়ী স্মারক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তত্বসূত্র: মুফতি কফিল উদ্দিন
সভাপতি, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..